মেদান্তায় ২৬ দিনের ঐতিহাসিক অনশনের অবসান! সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন ঘিরে দেশের রাজনীতিতে বড় মোড়

সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা তথা নিট (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান ব্যাপক দেশজোড়া প্রতিবাদ ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী মোড় এসেছে। আন্দোলনকারী বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অবশেষে গুরুগ্রামের বিখ্যাত মেদান্ত হাসপাতালে তাঁর দীর্ঘ ২৬ দিনের ঐতিহাসিক অনশন স্থগিত বা সমাপ্ত করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর মূল দাবিগুলোর সপক্ষে লিখিত আশ্বাস ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরেই তিনি এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে মূল দাবির মধ্যে প্রধানত অহিংস আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অতীতে দায়ের করা সমস্ত পুলিশি মামলা নিঃশর্তে প্রত্যাহার করে নেওয়া এবং চরম পদক্ষেপ বা আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া নিট পরীক্ষার্থীদের শোকার্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডে আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর ঠিক পরেই ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার এই ঘটনাটি ঘটে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশের লাখ লাখ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলা এই অনিয়ম ও উদ্বেগকে ‘মারাত্মক অবিচার’ বলে তীব্র ভাষায় অভিহিত করেছিলেন এবং দেশবাসীকে জানান যে এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত মূল অভিযুক্তদের ইতিমধ্যেই পুলিশি গ্রফতার করা হয়েছে। ছাত্র সমাজের মধ্যে আস্থা ফেরাতে কেন্দ্র সরকার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ‘ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত’ গঠনের যুগান্তকারী ঘোষণা করেছে। এই নির্দেশিকার বাস্তবায়ন ঘটিয়ে দিল্লি হাইকোর্ট ইতিমধ্যে এই ধরনের স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর প্রতিদিনের দ্রুত শুনানির জন্য একজন বিশেষ বিচারকও নিয়োগ করেছে।
অন্যদিকে, দেশজুড়ে সার্বিক ও গুণগত শিক্ষাগত সংস্কারের সুনির্দিষ্ট দাবিতে এবং তৎকালীন প্রশাসনের চরম উদাসীনতার বিরুদ্ধে দিল্লিতে আন্দোলনরত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) আজ শুক্রবার দেশজুড়ে এক ব্যাপক প্রতিবাদ ও ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। রাজধানীতে বিগত সোমবারের ছাত্র বিক্ষোভ চলাকালীন সংঘটিত সংঘর্ষে তথাকথিত ‘পুলিশি নির্যাতনের শিকার’ হওয়া আন্দোলনকারীদের প্রতি সর্বাত্মক সংহতি জানাতেই এই কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের দীর্ঘমেয়াদি দাবিগুলো পূরণের পথ প্রশস্ত করতে আজই সিজেপির একটি উচ্চপর্যায় প্রতিনিধি দলের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে মুখোমুখি সাক্ষাতের কথা নির্ধারিত রয়েছে। পরীক্ষার সার্বিক স্বচ্ছতা এবং অনিয়মের অভিযোগের অন্তরালে থাকা মূল ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে যন্তর মন্তর থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলা এই আন্দোলন ও সর্বশেষ পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি বজায় রেখেছে ইটিভি ভারত।