উপত্যকায় ফের রক্তাক্ত সন্ত্রাস! কোকেরনাগ রোডে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি

দক্ষিণ কাশ্মীরের কোকেরনাগ-অনন্তনাগ রোডে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের একটি টিমকে লক্ষ্য করে এক ভয়ংকর জঙ্গি হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসবাদীরা। গোয়েন্দা সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অতর্কিত এই গুলিবর্ষণের ঘটনায় একজন বীর পুলিশ কর্মী কর্তব্য পালন করতে গিয়ে শহিদ হয়েছেন। ঘটনার পরপরই গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। বর্তমানে জঙ্গিদের খোঁজে সেখানে এক বিশাল আকারের চিরুনি তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।

প্রাথমিক প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, পুলিশের একটি রুটিন গাড়িবহর যখন ওই পথ দিয়ে অতিক্রম করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই জঙ্গিরা অতর্কিত ও তীব্র গুলিবর্ষণ শুরু করে। সেই চরম উত্তেজনার মুহূর্তেও দেশের সুরক্ষায় বুক চিতিয়ে লড়তে গিয়ে এক সাহসী পুলিশ কর্মী তাঁর অমূল্য জীবন উৎসর্গ করেন। তাঁর এই বীরত্বপূর্ণ শহিদ হওয়ার খবরে গোটা উপত্যকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই হামলা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন স্থানীয় ঘটনা নয়, বরং জম্মু-কাশ্মীরের বর্তমান সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে এক বিরাট উদ্বেগের মেঘ ঘনাতে শুরু করেছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই হামলার পেছনে লস্কর-ই-তৈয়বা কিংবা জইশ-ই-মোহাম্মদের মতো কুখ্যাত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের হাত থাকতে পারে। অতীতেও এই ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের নির্দেশ সাধারণত সীমান্তের ওপার থেকেই পরিচালিত হয়ে এসেছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, পাকিস্তান কি তবে এখন নতুন কোনো কৌশলে ভারতের বিরুদ্ধে ‘০.৫ ফ্রন্ট ওয়ার’ বা ছায়াযুদ্ধের চক্রান্ত বাস্তবায়িত করতে চাইছে? অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পথে না হেঁটে, বরং উপত্যকায় ছোট ছোট ও আকস্মিক জঙ্গি হামলা চালিয়ে ভারতকে অভ্যন্তরীণভাবে অস্থির করে তোলা। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর শক্তি ও মনোযোগ বিভক্ত করা হয়, তেমনই অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মনে ভয় এবং অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হয়।

কাশ্মীরের স্থানীয় সাধারণ মানুষও এই নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বছরের পর বছর ধরে চলা এই সন্ত্রাসবাদের বিষাক্ত ছায়ার কারণে উপত্যকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে পর্যটন শিল্প, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ছোট-বড় ব্যবসা—সবক্ষেত্রেই অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যখন এখানকার তরুণ সমাজ বন্দুকের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনের স্বপ্ন দেখছে, ঠিক তখনই এই উগ্র সন্ত্রাসবাদীরা তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, পাকিস্তানের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও তারা কাশ্মীরকে সবসময় অশান্ত ও অস্থির রাখতে চায়। ভারত যখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চে কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করে ফেলছে, তখন এই ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা তাদের গভীর হতাশারই বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

বর্তমানে জম্মু-কাশ্মীরের ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযান অত্যন্ত তুঙ্গে রয়েছে। ভারতীয় সেনা, সিআরপিএফ (CRPF) এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ যৌথভাবে কোণঠাসা করতে পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে। উচ্চপর্যায়ের নির্দেশ পাওয়ার পরই সেখানে অতিরিক্ত ফোর্স নামানো হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের দ্রুত গ্রেফতার কিংবা নিকেশ করার জন্য প্রশাসন চরম সতর্কাবস্থায় রয়েছে। ওদিকে, দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা শহিদ পুলিশ কর্মীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে শত সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিলেও একজন সাহসী সৈনিকের তাজা প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো উপায় নেই। এই বীর শহিদের চরম আত্মত্যাগ দেশবাসী কোনোদিনও ভুলবে না।