শিবসেনা ভাঙন কাণ্ডে সরাসরি হস্তক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের! লোকসভার স্পিকারকে নোটিশ দিয়ে তলব দেশের সর্বোচ্চ আদালতের

মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে তীব্র ভূকম্পন সৃষ্টি করে শিবসেনার (ইউবিটি) পক্ষ থেকে দায়ের করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলার শুনানিতে অবশেষে সবুজ সংকেত দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের দাখিল করা বিশেষ পিটিশনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে লোকসভা সচিবালয় এবং দলত্যাগকারী অভিযুক্ত সাংসদদের উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ জারি করা হয়েছে, যা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিচারপতি পি. এস. নরসিমহা এবং বিচারপতি অলোক অরাধের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ বুধবার এই মামলাটির শুনানি গ্রহণ করে নোটিশ জারির নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে লোকসভার স্পিকারের কার্যালয় তথা সচিবালয় এবং মামলার অন্যান্য সমস্ত প্রতিপক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, বিগত সংসদীয় বাজেট বা বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার ঠিক দু’দিন আগে গত ১৮ জুলাই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের মোট ৬ জন সাংসদের একনাথ শিন্দের নেতৃত্বাধীন মূল শিবসেনা দলে বিলীন হওয়ার প্রক্রিয়াটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছিলেন। সংসদের প্রশাসনিক ও সরকারি সূত্র মারফত জানানো হয়েছিল যে, এই ছয় জন বিদ্রোহী সাংসদের দলবদলের ফলে লোকসভায় একনাথ শিন্দের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার মোট সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে সরাসরি ১৩ জনে এসে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার উদ্ধব ঠাকরে গুটের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে প্রবীণ আইনজীবী দেবদত্ত কামত এই মামলার জরুরি উল্লেখ করেছিলেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম. পঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের সামনে বিষয়টি উত্থাপন করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়। আদালতের কাছে আইনজীবী সওয়াল করেন যে, স্পিকার মহোদয় যে কায়দায় এই ৬ জন সাংসদের দলবদলকে বৈধতা দিয়েছেন, তা দেশের রাজনীতিতে এক ভয়ঙ্কর ও নতুন বিপজ্জনক প্রবণতার জন্ম দিচ্ছে। ভোটারদের রায়কে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সাংসদরা আজ এমন সব রাজনৈতিক শিবিরে ভিড় জমাচ্ছেন, যাদের বিরুদ্ধে তাঁরা বিগত লোকসভা নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেছিলেন।
চলতি বছর অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচন ২০২৪-এ মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার টিকিটে মোট ৯ জন সাংসদ জয়ী হয়ে সংসদে পা রেখেছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে পরবর্তীতে তাদের মধ্যে থেকে ৬ জন সাংসদ দলত্যাগ করে একনাথ শিন্দের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া মূল আবেদনে উদ্ধব শিবির অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করেছে যে, দলবদল বিরোধী আইন বা অ্যান্টি-ডিফেকশন ল’-এর সুনির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী এই বিদ্রোহী সাংসদদের অবিলম্বে অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত ছিল। কিন্তু সমস্ত আইনি যুক্তিকে পাশ কাটিয়ে স্পিকার তাঁদের দলীয় ব্লকের এই বিতর্কিত বিলীন হওয়াকে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন। এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই মামলার কী রায় দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজনৈতিক মহল।