বিধানসভায় বড় ঘোষণা! গভীর সমুদ্রে ট্রলার ডুবি ও সিকিম বিপর্যয়ে নিহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ও চাকরির ঘোষণা

বিধানসভায় দাঁড়িয়ে গভীর সমুদ্রে ট্রলার ডুবি এবং সিকিমের মর্মান্তিক টানেল বিপর্যয়ে নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি চাকরির বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, টাকার বিনিময়ে কখনও প্রাণের ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়। তবুও মানবিকতার খাতিরে রাজ্য সরকার সর্বদাই নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছে। এই দুটি বড় দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য করার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি, ট্রলার দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীদের পরিবার থেকে অন্তত একজনকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরিও দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

গত ২ জুলাই পূর্ব মেদিনীপুরের শঙ্করপুর মৎস্যবন্দর থেকে মৎস্যজীবীদের নিয়ে গভীর সমুদ্রে ইলিশ ধরতে রওনা দিয়েছিল ‘জয় মা কালী’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার। কিন্তু ৬ জুলাইয়ের পর থেকেই ওই ট্রলারটির সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ ও টানা তল্লাশির পর উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং বন দফতরের যৌথ প্রচেষ্টায় বকখালি ও বাঘেরচরের কাছে ওই ডুবন্ত ট্রলারটির সন্ধান মেলে। এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, উপকূলরক্ষী বাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টার প্রথম ওই ট্রলারটির সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করে। এরপর সুন্দরবন জেলার পুলিশ সুপার এবং সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার সরাসরি উপস্থিতিতে সারারাত ধরে উদ্ধারকাজ চালানো হয়।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও এই ঘটনায় একজন আগেই জীবিত ফিরে আসতে পেরেছিলেন এবং আর কয়েকজন ওড়িশার বালেশ্বরে রয়েছেন। নিহত মৎস্যজীবীদের বেশিরভাগই মূলত হাওড়া, নদীয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বাসিন্দা। ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সম্পূর্ণ স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় বলেন, “প্রত্যেকটি পরিবারকে আবারও বলছি যে অর্থ দিয়ে কখনও মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না, তবু সরকারের একটা মানবিক দায়িত্ব থেকে যায়। আমরা পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং প্রত্যেকটি ফিশারম্যান পরিবারের একজনকে আমাদের সিভিক ভলান্টিয়ার্স হিসেবে স্থানীয় থানায় নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” আগামী রবিবার রামনগর এক নম্বর ব্লকের প্রশাসনিক কার্যালয়ে এই সমস্ত নিহতদের পরিবারের হাতে অফিশিয়াল নিয়োগপত্র ও আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, সিকিমে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আটকে পড়া জলপাইগুড়ির শ্রমিকদের প্রসঙ্গেও এদিন বিধানসভায় মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। দ্রুত ও জরুরি উদ্ধারকাজে তদারকির জন্য রাজ্য সরকারের নিজস্ব বিমান ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এই প্রসঙ্গেই পূর্বতন প্রশাসনকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, “আগে কেবলমাত্র সম্রাজ্ঞীই বিমান ব্যবহার করতেন, সরকারের আর কারও সেই বিমানে ওঠার কোনও অধিকার ছিল না।” তবে এখন এই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বিপর্যয়ের খবর পাওয়া মাত্রই নিজস্ব বিমানে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রধান সচিব রাজেশ সিনহা, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা এবং নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরাকে সিকিমে পাঠানো হয়েছিল।

সিকিমে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয়ের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ২০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনই জলপাইগুড়ির বাসিন্দা বলে জানা গেছে। বাকি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে এনডিআরএফ, ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং সিকিম সরকার যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন। সিকিম বিপর্যয়ে নিহতদের পরিবারের জন্যও আর্থিক ক্ষতিপূরণ সহ সমস্ত রকম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাজ্য সরকার নেবে বলে এদিন বিধানসভায় সকলকে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।