গোবিন্দপুরে মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি: গেট খোলা থাকাতেই কি প্রাণ গেল খুদে পড়ুয়াদের? রেল ও রাজ্য উভয়ই দিচ্ছে বড় ক্ষতিপূরণ

মুর্শিদাবাদের আজিমগঞ্জ-কাটোয়া রেল শাখার অন্তর্গত কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝামাঝি একটি লেভেল ক্রসিংয়ে শুক্রবার সকালে এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল বাংলা। স্কুল পড়ুয়াদের বহনকারী একটি পুলকারে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনের প্রচণ্ড সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছে মোট ৫ জন। প্রাথমিকভাবে ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও, পরে তা বেড়ে ৫-এ দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই খুদে স্কুল পড়ুয়া। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ রাজ্য। দুর্ঘটনার পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকালে, যখন একটি পুলকার বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী নিয়ে ওই লেভেল ক্রসিং পার হচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের দাবি, রেলগেটের গেটম্যান নিয়ম ভেঙে লেভেল ক্রসিংটি খোলা রেখেছিলেন। একটি ট্রেন চলে যাওয়ার পর তিনি গেটটি খুলে দেন, আর ঠিক সেই মুহূর্তেই উল্টোদিক থেকে আসা নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি সজোরে ধাক্কা মারে স্কুলগাড়িটিকে। সংঘর্ষের তীব্রতায় গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। আহত পুলকার চালকের পরিবারের অভিযোগ, সম্পূর্ণ গাফিলতি গেটম্যানের। স্থানীয় উত্তেজিত মানুষজন অভিযুক্ত গেটম্যানকে কেবিনে আটকে রেখেছিলেন, পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে। রেলের তরফেও অভিযুক্ত গেটম্যান ও আরও এক রেলকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল রাজনৈতিক তোপ দেগে বলেন, “উন্নয়ন করার মানসিকতা থাকলে এসব অঘটন ঘটত না। আগের সরকার বিভিন্ন জায়গায় ফ্লাইওভার বা ওভারব্রিজ তৈরিতে বাধা দিয়েছে। আসানসোলের কোর্ট মোড়ে ওভারব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা ও অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও পূর্বতন সরকার তা করতে দেয়নি।” শিশুদের অকাল প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, “যে বাচ্চাগুলোর প্রাণ গেল, একজন সাইকেল চালক, আর পুলকারের ড্রাইভার—এই ক্ষতি অপূরণীয়। গেটম্যানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।”
মর্মান্তিক এই ঘটনার পরই ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছে রেল ও রাজ্য সরকার। রেলের তরফে মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা এবং রাজ্য সরকারের তরফে অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে, তবে এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কীভাবে এমন নিরাপত্তাহীন অবস্থায় গেট খোলা রাখা হলো, তা নিয়ে এখন উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে রেলের আধিকারিকরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে ওই লেভেল ক্রসিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে এবং প্রয়োজনে উড়ালপুল নির্মাণ করতে হবে। আপাতত পুলিশের কড়া নজরদারিতে ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহগুলিকে পাঠানো হয়েছে।