অভিষেক ঘনিষ্ঠ দেবরাজের বিপদ বাড়ল! হেফাজতের মেয়াদ বাড়তেই মিলল ৮ কোটির হদিশ, উদ্ধার ৫০০ গ্রাম সোনা

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর আইনি জটিলতা আরও গভীর হলো। তোলাবাজি, বেহিসাবী সম্পত্তি অর্জন এবং নানা অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে ধৃত দেবরাজ চক্রবর্তীর পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ আরও ৬ দিনের জন্য বৃদ্ধি করল বারাসাত আদালত। শুক্রবার আদালত কক্ষে শুনানি চলাকালীন তদন্তকারী অফিসাররা তার বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করেছেন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে দেবরাজের বিপদ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত দেবরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাঙ্কের লকার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পায়। সেই সূত্রের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৫০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করেছে। শুধু সোনার গয়না নয়, তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া আরও একটি বড় প্রমাণ হাতে এসেছে পুলিশের। নথি অনুযায়ী, দেবরাজের নামে থাকা প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে হস্তান্তরের চেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কার কাছে বা কীভাবে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ছিল, তা নিয়ে এখন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন ধৃত নেতা।
বারাসাত আদালত এ দিন স্পষ্ট জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে দেবরাজকে আরও কিছু সময় পুলিশের হেফাজতে থাকা প্রয়োজন। আদালত তার হেফাজতের মেয়াদ আগামী ৬ দিনের জন্য বাড়িয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সময়ে অভিযুক্তকে মুখোমুখি বসিয়ে উদ্ধার হওয়া সম্পত্তি এবং সোনা সংক্রান্ত বিষয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। দেবরাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর প্রতিটি ধাপে স্থানীয় রাজনীতির অন্দরেও ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা এই নেতার গ্রেফতারি এবং পরবর্তীকালে সম্পত্তির হদিশ পাওয়ার বিষয়টি তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যে এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে। অন্যদিকে, শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে মামলার গতিপ্রকৃতি দেখে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী ৬ দিনের হেফাজত শেষে আরও বেশ কিছু বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে পারে। পুলিশ এখন জানার চেষ্টা করছে যে, সাড়ে ৮ কোটি টাকার এই সম্পত্তির উৎস কী এবং এর সাথে আর কারা জড়িত।