গোবিন্দপুরে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারাল ৪! প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, নবান্ন থেকে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ

আজিমগঞ্জ-কাটোয়া রেল শাখার অন্তর্গত মুর্শিদাবাদের গোবিন্দপুর রেলগেটে এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা জেলায়। শুক্রবার সকালের আলো ফোটার আগেই ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তিন স্কুল পড়ুয়াসহ মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে রাজ্য সরকার এটিকে কেবল নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ এই দুর্ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রেলের গেটম্যানের গাফিলতি বা প্রশাসনিক ত্রুটি—কোনো কিছুই বরদাস্ত করা হবে না। ইতিমধ্যে রাজ্য পুলিশ অভিযুক্ত গেটম্যানকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার নিরপেক্ষ এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ সকালে মুর্শিদাবাদে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনার খবরে আমি অত্যন্ত শোকাহত। যে অল্পবয়সী পড়ুয়ারা অকালে প্রাণ হারিয়েছে, তাদের পরিবার এবং বাবা-মায়ের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। এই কঠিন মুহূর্তে গোটা রাজ্য প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলোর পাশে আছে।”

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধারকার্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং উদ্ধারকাজ তদারকি করেন। রাজ্য সরকারের নির্দেশে আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো রকম গাফিলতি যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় নজর রাখছেন। আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও, পরিস্থিতির গুরুত্ব খতিয়ে দেখতে রাজ্যের মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সরকারি তরফে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। রাজ্য সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে গোটা পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, এই ঘটনায় জড়িত কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না এবং তদন্তের শেষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শোকাতুর মুর্শিদাবাদবাসী এখন সেই তদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।