ধোঁয়া নয়, এবার জলীয় বাষ্পে ছুটবে ট্রেন! ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের উদ্বোধন করলেন মোদী

ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। পরিবেশ দূষণমুক্ত রেল যোগাযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের উদ্বোধন করলেন। হরিয়ানার জিন্দ স্টেশন থেকে এই ট্রেনের যাত্রার সূচনা হয়। আপাতত এই ট্রেনটি জিন্দ ও সোনিপতের মধ্যে ৮৯ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে। ডিজেল ইঞ্জিন চালিত ট্রেনের ধোঁয়া ও পরিবেশ দূষণের সমস্যা দূর করতে এই ট্রেন এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই ট্রেনটি সম্পূর্ণ হাইড্রোজেন জ্বালানিতে চলে। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ট্রেনটিকে শক্তি জোগানো হয়। ডিজেল ইঞ্জিনের বিপরীতে এই হাইড্রোজেন ইঞ্জিন কোনো ক্ষতিকারক ধোঁয়া নির্গত করে না, এর বদলে কেবল জলীয় বাষ্প বের হয়। এটি পুরোপুরি পরিবেশবান্ধব। এই উদ্যোগটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘জাতীয় হাইড্রোজেন মিশন’-এর একটি অংশ, যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত হয়েছিল। ভারত সরকারের লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ লক্ষ টন সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন করা। পর্যাপ্ত জল এবং সৌরশক্তি থাকায় ভারত সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হাইড্রোজেন হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে প্রাচুর্যপূর্ণ মৌল, যা জল বা হাইড্রোকার্বনের সাথে আবদ্ধ থাকে। তবে উৎপাদনের পদ্ধতি অনুযায়ী এর প্রকারভেদ রয়েছে। এই ট্রেনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ‘সবুজ হাইড্রোজেন’, যা জল ও নবায়নযোগ্য শক্তির (সৌর বা বায়ু শক্তি) মাধ্যমে তৈরি। এটি সবচেয়ে নিরাপদ এবং এর কার্বন নিঃসরণ শূন্য। এছাড়া ব্লু, গ্রে, পিঙ্ক বা গোলাপি, হলুদ এবং ফিরোজা হাইড্রোজেনের মতো বিভিন্ন প্রকার রয়েছে, যা মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা বা পারমাণবিক শক্তির ওপর নির্ভর করে। তবে পরিবেশ রক্ষায় ভারত শুধুমাত্র ‘সবুজ হাইড্রোজেন’-এর ওপরই সর্বাধিক জোর দিচ্ছে।

রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ভারতীয় রেলের “হাইড্রোজেন ফর হেরিটেজ” প্রকল্পের অধীনে দেশে মোট ৩৫টি হাইড্রোজেন ট্রেন চালানো হবে। প্রতিটি ট্রেন নির্মাণে খরচ হবে প্রায় ৮০ কোটি টাকা এবং আনুষঙ্গিক পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হবে ৭০ কোটি টাকা। দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনটি কেবল প্রযুক্তির আধুনিকায়ন নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় ভারতের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতীক। ভবিষ্যতে এই ট্রেন সারা দেশের রেল নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়লে ভারতীয় পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্বনমুক্ত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।