অনশনের ২০তম দিনে সংকটে সোনম ওয়াংচুক! সরকার কি ইরম শর্মিলা মডেলে বাধ্য করবে অনশন ভাঙতে?

দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান অনশনের ২০তম দিনে পৌঁছেছেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক। টানা অনশনের ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত ১৯ দিনে তাঁর শরীরের ওজন ৯ কিলোগ্রাম কমেছে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির রাজপথে এখন একটাই প্রশ্ন—সোনম ওয়াংচুককে বাঁচিয়ে রাখতে সরকার কি অবশেষে সেই পুরনো পথে হাঁটবে, যা অতীতে ইরম শর্মিলা চানুর ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছিল?
বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত জানিয়েছে, প্রতিটি নাগরিকের জীবন অমূল্য এবং তাঁকে সুস্থ রাখার জন্য সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো উচিত। আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, প্রতিদিন সরকারি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। তবে হাইকোর্টের এই নির্দেশের পরেও অনশন ভাঙতে নারাজ সোনম। বুধবার গভীর রাতে ভিডিও বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকার যতক্ষণ না তাঁর দাবি শুনছে, ততক্ষণ তিনি এই পথ থেকে সরবেন না। তিনি আগামী ২০ জুলাইয়ের সংসদ পদযাত্রায় যোগ দেওয়ার জন্য দেশবাসীকে আহ্বানও জানিয়েছেন।
সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ওয়াংচুকের প্রাণ বাঁচানো। অতীতে একই ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলায় ইরম শর্মিলা চানুর ক্ষেত্রে সরকার ‘জোরপূর্বক খাওয়ানো’ বা ফোরস-ফিডিংয়ের পথ বেছে নিয়েছিল। মণিপুরের ‘লৌহমানবী’ ইরম শর্মিলা আফস্পা (AFSPA) বাতিলের দাবিতে ২০০০ সালের ৫ নভেম্বর থেকে ১৬ বছর ধরে অনশন করেছিলেন। সেই সময় তাঁকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকার নাকে নল (ন্যাসোগ্যাস্ট্রিক টিউব) ঢুকিয়ে তরল পুষ্টি দিতে বাধ্য হয়েছিল। দীর্ঘ ১৬ বছর তিনি এভাবেই হাসপাতালের বন্দী জীবন কাটিয়েছিলেন। সোনমের শারীরিক অবনতির যে ধারা দেখা যাচ্ছে, তাতে সরকার যদি দ্রুত তাঁর দাবি নিয়ে আলোচনা না করে, তবে কি আবারও সেই কঠোর নল-নির্ভর চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে?
সোনম ওয়াংচুকের লড়াই এখন আর কেবল ব্যক্তিগত কোনো প্রতিবাদ নয়, এটি দেশজুড়ে এক বৃহত্তর আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। অনশনের ফলে তাঁর শরীরের সঞ্চিত শক্তি শেষ হয়ে আসছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, সরকারের নীরবতায় বাড়ছে জনরোষ। একদিকে মানবিকতার খাতিরে জীবন রক্ষা, অন্যদিকে রাজনৈতিক জিদ—এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে সোনম ওয়াংচুকের জীবন এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে। সরকার কি ইরম শর্মিলার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেবে, নাকি আলোচনার মাধ্যমে এই জটিল পরিস্থিতির অবসান ঘটাবে—সেটাই এখন সময়ের দাবি।