অবশেষে মুক্তি হীরা ব্যবসায়ীর! মালিতে অপহৃত ধীরু রামানির জন্য গুনতে হলো ৪৪ কোটি টাকা মুক্তিপণ!

আফ্রিকার দেশ মালিতে অপহৃত সুরাটের প্রখ্যাত হীরা ব্যবসায়ী ধীরু রামানির মুক্তি নিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে তাঁর পরিবার ও সুরাটের ব্যবসায়ী মহল। দীর্ঘ তিন মাসের শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির পর অবশেষে অক্ষত অবস্থায় বাড়ি ফিরলেন ৭৫ বছর বয়সী এই শিল্পপতি। মুক্তিপণের অংক শুনলে যে কারও চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার কথা—অপহণকারীরা প্রথমে ১০০ কোটি টাকা দাবি করলেও, দীর্ঘ দরাদরি ও আলোচনার পর প্রায় ৪৪ কোটি টাকার বিনিময়ে তাঁর মুক্তি নিশ্চিত হয়েছে।
কে এই ধীরু রামানি? সুরাট-ভিত্তিক হীরা শিল্পের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র তিনি। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি হীরা ও গয়নার ব্যবসায় নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন। শুধু ভারত নয়, তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ছড়িয়ে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহর পর্যন্ত। ‘রামানি এক্সপোর্টস’ নামক তাঁর কোম্পানি আন্তর্জাতিক বাজারে হীরা ও গহনার জগতে এক নির্ভরযোগ্য নাম। হীরা ব্যবসার পাশাপাশি তিনি গত কয়েক বছর ধরে আফ্রিকার দেশ মালিতে স্বর্ণখনি প্রকল্পে বড় আকারের বিনিয়োগ করেছিলেন। সেই প্রকল্পের দেখাশোনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা অবস্থাতেই তিন মাস আগে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি।
নিখোঁজ হওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও দুই ভারতীয়—একজন রাঁধুনি ও একজন ইলেকট্রিশিয়ান। পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই আশঙ্কা করা হচ্ছিল, কোনো শক্তিশালী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এই অপহরণের পেছনে রয়েছে। অপহৃত হওয়ার পর বেশ কিছু সময় পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকায় উৎকণ্ঠা চরম আকার ধারণ করে। পরে অপহরণকারীদের কাছ থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের কাছে তাঁর জীবিত থাকার প্রমাণ দেওয়া হয়। ভিডিও কলে ধীরু রামানি ও তাঁর সঙ্গীদের সুস্থ দেখলেও, মুক্তিপণের অংক নিয়ে শুরু হয় তীব্র টানাপোড়েন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী তাঁর পরিবারের সদস্যরা অপহরণকারীদের সঙ্গে সমানে আলোচনা চালিয়ে যান। সূত্র অনুযায়ী, মুক্তিপণ হিসেবে ১০০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। সবশেষে ৪৪ কোটি টাকায় বিষয়টি মিটমাট হয় এবং ধীরু রামানি মুক্তি পান। তবে এই অপহরণের পেছনে আল-কায়দা বা অন্য কোনো স্থানীয় কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি ভারত বা মালি সরকার। তিন মাসের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরে আসার খবরে সুরাটের হীরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে যেমন স্বস্তি ফিরেছে, তেমনি মালিতে বিনিয়োগ করা অন্যান্য ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ।