‘লাভ জিহাদ’ বিতর্কে নীরবতা ভাঙলেন আমির খান! গৌরীর সঙ্গে বিয়ে নিয়ে করলেন বড় খোলসা

বলিউড সুপারস্টার আমির খান অবশেষে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে ওঠা যাবতীয় বিতর্কের কড়া জবাব দিয়েছেন। বেশ কিছুদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন কট্টরপন্থী সংগঠনের পক্ষ থেকে আমিরের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ তোলা হচ্ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর, ডেকান ক্রনিকলকে দেওয়া একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে ৬১ বছর বয়সী এই অভিনেতা সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন।
আমির খান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন যে, তাঁর পরিবার কখনোই ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ করেনি। তাঁর কথায়, “আমাদের পুরো পরিবার বৈচিত্র্য এবং সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। আমার পরিবার বরাবরই সব ধর্মের মানুষকে সম্মান জানিয়ে এসেছে।” অভিনেতা উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন নিজের পরিবারের সদস্যদের কথা। তিনি জানান, তাঁর দুই বোন হিন্দু পুরুষকে বিয়ে করেছেন, মেয়ে ইরা খানও একটি হিন্দু পরিবারে বিয়ে করেছেন, এমনকি তাঁর এক তুতো ভাই একজন খ্রিস্টান মহিলাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এই তথ্য দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, ধর্মীয় সম্প্রীতি তাঁর বেড়ে ওঠারই অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমির খান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, গৌরীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে বিশেষ বিবাহ আইনের (Special Marriage Act) অধীনে সম্পন্ন হয়েছে। শুধু তাই নয়, অভিনেতা পরিষ্কার করেছেন যে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী রীনা দত্ত, কিরণ রাও কিংবা বর্তমান সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাট—কেউই তাঁকে বিয়ে করার আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেননি। গৌরীর বিষয়ে আমির আরও বলেন, “গৌরী খ্রিস্টান, হিন্দু নন।” পাশাপাশি তিনি গৌরীকে একজন অত্যন্ত উদারমনস্ক মানুষ হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছেন যে, তিনি কঠোরভাবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান মেনে চলেন না।
এই বিতর্ককে আমল না দিয়ে অভিনেতা বরং রসিকতার সুরে মন্তব্য করেছেন, “এই ধরনের কাল্পনিক আলোচনা চলতে থাকায় জীবন আরও মজাদার হয়ে উঠছে।” উল্লেখ্য, এই বিতর্ক দানা বেঁধেছিল জগদ্গুরু পরমহংস আচার্যর মন্তব্যের পর। ওই ধর্মগুরু আমিরের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’-এর প্রচারের অভিযোগ তুলে তাঁকে হত্যার জন্য ৫ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি করেছিলেন। আইনি লড়াইয়ের ভয় না দেখিয়ে আমির অবশ্য নিজের অবস্থানে অটল রয়েছেন। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, তাঁর বিয়ে সম্পূর্ণভাবে একটি দেওয়ানি চুক্তি (civil union)।
আমিরের এই স্পষ্ট বক্তব্যের পর এটা স্পষ্ট যে, তিনি কোনো বিতর্কেই মাথা নত করতে রাজি নন। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং ধর্মীয় সহনশীলতার প্রশ্নে যে আদর্শ বজায় রেখেছেন, তা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তবে আমিরের এই সাক্ষাৎকার বিতর্ক থামাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।