নোয়াডায় মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড: ই-স্কুটার চার্জিং থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, প্রাণ হারালেন ২

বুধবার সকালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কেঁপে উঠল নোয়াডার সেক্টর-৬৬ এর মামুরা গ্রাম। এদিন সকালে একটি পাঁচতলা (G+4) আবাসিক ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে পার্কিং এলাকায় বৈদ্যুতিক স্কুটার চার্জ করার সময় হঠাৎ শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তা মুহূর্তের মধ্যে পার্কিংয়ে থাকা অন্যান্য পেট্রোলচালিত যানবাহনে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়ায় পুরো ভবনটি ঢেকে যায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই এলাকাটিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ফেজ-৩ থানার পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর সাতটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধারকাজে সহায়তা করে হাইড্রোলিক প্ল্যাটফর্ম ও অত্যাধুনিক রেসকিউ ভ্যান। ভবনটিতে প্রায় ৫০টি পরিবার বাস করত, যাদের জীবন রক্ষায় দমকল কর্মীরা তৎপর হয়ে ওঠেন। ভবনের ছাদে এবং ওপরের তলার বাসিন্দাদের উদ্ধার করতে পাশের ভবন থেকে মইয়ের সাহায্য নেওয়া হয়। পুলিশ ও দমকল কর্মীদের যৌথ প্রচেষ্টায় শতাধিক বাসিন্দাকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া এক নারী ও এক পুরুষকে দ্রুত জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। গৌতম বুদ্ধ নগরের জয়েন্ট কমিশনার অফ পুলিশ রাজীব নারায়ণ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ই-স্কুটারের ব্যাটারি চার্জ করার সময় স্ফুলিঙ্গ থেকেই এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত। গ্রাউন্ড ফ্লোরের পার্কিং থেকে ওঠা ধোঁয়া দ্রুত ওপরের তলাগুলোতে পৌঁছে যাওয়ায় বাসিন্দারা আটকা পড়েন। ভবন মালিক এবং লিজহোল্ডারের বিরুদ্ধে ফেজ-৩ থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভবনটি অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি মেনে তৈরি কি না এবং পার্কিং এলাকায় ই-ভি চার্জিংয়ের মতো বিপজ্জনক কাজ করার অনুমতির বিষয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।