ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন, এমবাপে-যুগের পরিসমাপ্তি?

ড্যালাসের স্টেডিয়ামে আজ রচিত হলো এক নতুন ইতিহাস। ইউরোপীয় ফুটবলের দুই মহাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেনের সেমিফাইনাল লড়াইয়ে ফ্রান্সকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে টিকিট নিশ্চিত করল স্পেন। লামিন ইয়ামালের জাদুকরী পারফরম্যান্স এবং স্প্যানিশ রক্ষণভাগের নিখুঁত কৌশলের কাছে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে বাধ্য হলো কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্স।

ম্যাচের প্রথমার্ধ: পেনাল্টির নাটক ও এগিয়ে যাওয়া

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই সাবধানী ফুটবল খেলে। তবে প্রথমার্ধের ২০ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। লুকাস দিগনের ফাউলে লামিন ইয়ামাল বক্সে পড়ে গেলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি ইভান বার্টন। মিকেল ওয়ারজাবাল অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী শটে গোল করে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ফ্রান্স সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও এমবাপে অফসাইডের ফাঁদে আটকা পড়েন। এছাড়া ফরাসি ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবার পিঠের চোট পুরো দলের রক্ষণে বড় ধাক্কা দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধ: স্পেনের ‘মাস্টারক্লাস’ ও ফ্রান্সের বিদায়

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ফ্রান্স আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল চীনের প্রাচীরের মতো অটুট। ৫৮ মিনিটে দানি ওলমোর নিখুঁত পাস থেকে লামিন ইয়ামালের নিঃস্বার্থ বাড়িয়ে দেওয়া বলে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেড্রো পোরো। পাস, মুভমেন্ট এবং ফিনিশিং—এই নিখুঁত ফুটবল প্রদর্শনীর কাছেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে ফরাসিরা। ৬১ মিনিটে ইয়ামালের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলেও, ফ্রান্স ঘুরে দাঁড়ানোর মতো কোনো রসদ খুঁজে পায়নি।

হতাশার রাতে এমবাপে

বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসির রেকর্ড ছোঁয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা এমবাপে আজ একেবারেই নিষ্প্রভ ছিলেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে উনাই সিমোনকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। ডেম্বেলে, চেরকি বা এমবাপে—কেউই স্পেনের মার্ক কুকুরেয়া ও গোলরক্ষক উনাই সিমোনের পরীক্ষা নিতে পারেননি। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই নিশ্চিত হয়ে যায় ফ্রান্সের বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গ।

ফাইনালে প্রতিপক্ষ কে?

আগামী রবিবার বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ডের মধ্যে বিজয়ী দলের। ফুটবল পণ্ডিতদের অনুমানের চেয়েও মাঠের খেলায় স্পেন আজ অনেক বেশি দাপট দেখিয়েছে।

ম্যাচ হাইলাইটস একনজরে:

  • গোলদাতা: মিকেল ওয়ারজাবাল (২০’), পেড্রো পোরো (৫৮’)।

  • বিশেষ মুহূর্ত: লামিন ইয়ামালের গোল অফসাইড বিতর্ক এবং এমবাপের হলুদ কার্ড।

  • ফলাফল: ফ্রান্স ০-২ স্পেন।

ডালাসের আজকের এই লড়াই নিশ্চিতভাবেই ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অনেকদিন উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। একদিকে তরুণ লামিন ইয়ামালের উত্থান, অন্যদিকে ফরাসি ফুটবলের এক যুগের সমাপ্তি—সব মিলিয়ে আজকের রাতটি ছিল স্প্যানিশ ফুটবলের জয়গান।