‘বিচার কেন মিলছে না?’ মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার, সিআইডি তদন্তে বড় অভিযোগ

২০১৩ সালের ৭ জুন। সেই ভয়াবহ দিনটির কথা মনে পড়লে আজও শিউরে ওঠে গোটা বাংলা। কামদুনিতে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও নৃশংস খুনের ঘটনা রাজ্যের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই ঘটনার তেরো বছর অতিক্রান্ত হতে চলল, কিন্তু বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতায় এখনও ন্যায়বিচার অধরা। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এবার সেই পুরনো ক্ষতে মলম লাগাতে এবং বিচার প্রক্রিয়ার গতি ত্বরান্বিত করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন কামদুনিকাণ্ডের দুই প্রধান প্রতিবাদী মুখ মৌসুমী কয়াল ও টুম্পা কয়াল। বুধবার তাঁরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ হাজির হয়ে সুবিচারের আর্জি জানালেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কামদুনির নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা তাঁদের দীর্ঘ বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। পরিবারের অভিযোগের প্রধান লক্ষ্য ছিল সিআইডি (CID) তদন্তের ভূমিকা ও মামলার ধীরগতি। অভিযোগ, তদন্তের প্রতিটি স্তরে চূড়ান্ত গাফিলতি করা হয়েছে, যার ফলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। আদালতের দীর্ঘসূত্রতার জেরে তেরো বছর ধরে তাঁরা দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, কিন্তু চূড়ান্ত রায় এখনও অধরা। মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া স্মারকলিপিতে তাঁরা তদন্তের স্বচ্ছতা ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের অভিযোগ মন দিয়ে শোনেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ্বাস দেন। ‘জনতার দরবার’ থেকে বেরিয়ে মৌসুমী কয়াল বলেন, “আমরা তেরো বছর ধরে লড়াই করছি। সিআইডি তদন্তের নামে আমাদের শুধু ঘোরানো হয়েছে। মূল অপরাধীরা যাতে সাজা পায় এবং আদালত যাতে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে, তার জন্যই মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছি।”
উল্লেখ্য, কামদুনিকাণ্ডের পর রাজ্যজুড়ে যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল, তার অন্যতম মুখ ছিলেন মৌসুমী ও টুম্পা। তাঁদের এই লড়াই দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। কিন্তু বারবার আইনি মারপ্যাঁচে বিচারের দিন পিছিয়ে যাওয়ায় তাঁরা হতাশ। পরিবারের দাবি, এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকার যদি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখে, তবেই হয়তো প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি সুনিশ্চিত করা সম্ভব।
রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে যখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ নিজেদের অভাব-অভিযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হচ্ছেন, তখন কামদুনির মতো স্পর্শকাতর একটি ঘটনার পরিবারের এই উপস্থিতি রাজ্যের বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে ফের নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার, সরকারের সর্বোচ্চ স্তর থেকে হস্তক্ষেপের পর মামলার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়। কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার এখন কেবলই বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছে, কারণ তেরো বছরের এই দীর্ঘ অপেক্ষা আর কতদিন চলবে, তা নিয়ে জনমনে এখন গভীর ক্ষোভ বিরাজমান।