নেত্রীর হাত ছাড়লেন মদন! ঋতব্রতর শিবিরে যোগ দিয়ে কীসের ইঙ্গিত কামারহাটির বিধায়কের?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বুধবার এক অভাবনীয় ও নাটকীয় পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী এবং কামারহাটির দাপুটে বিধায়ক মদন মিত্র অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাঁর এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা তৃণমূলের অন্দরে এক গভীর সঙ্কটের জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিনের আনুগত্য ও মমতার প্রতি আস্থাশীল থাকার পরেও ঠিক কী কারণে তিনি এই চরম পথে হাঁটলেন, তা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।

মদন মিত্রের এই দলত্যাগ যে কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, তা তাঁর এদিনের শরীরী ভাষা ও ইঙ্গিতেই স্পষ্ট। সাদা পাঞ্জাবি ও কালো চশমা পরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বসে তিনি যে বার্তা দিলেন, তা শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সরাসরি নাম না নিলেও, মদন মিত্রের তীর্যক মন্তব্য যে তৃণমূলের বর্তমান ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু অর্থাৎ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই ছিল, তা রাজনৈতিক মহলের কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মদন মিত্রের মতো একজন ক্যারিশম্যাটিক নেতার এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই নবীন বনাম প্রবীণ নেতাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও মনোমালিন্য দানা বাঁধছিল। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশই কি মদন মিত্রের এই ইস্তফা? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে তাঁর উপস্থিতি শাসকদলের জন্য যেমন এক বড় রাজনৈতিক ধাক্কা, তেমনই বিরোধীদের হাতে বড় অস্ত্র তুলে দিয়েছে।

মদন মিত্রের এই আচরণের পর থেকে জল্পনা চলছে—তবে কি কালীঘাট তৃণমূলের অভ্যন্তরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র প্রভাব মেনে নিতে পারেননি তিনি? মদন মিত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, দলের বর্তমান কার্যপদ্ধতি ও নেতৃত্বের একাংশের আচরণ তাঁকে চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। তিনি বলেন, “দলের ভেতরে এখন এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে পুরনো সৈনিকদের আর প্রয়োজন নেই।” তাঁর এই মন্তব্য যে দলের অন্দরে এক বড় বিভাজন সৃষ্টি করতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও, ঘটনাটি যে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে, তা তাঁদের অস্বস্তিতেই প্রকাশ পাচ্ছে। মদন মিত্র কি এবার পুরোপুরি বিরোধী শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হবেন, নাকি একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবেন? এই উত্তর খুঁজছে এখন বাংলার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কারবারিরা। মদন মিত্রের এই বিদ্রোহের ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ওপর কোনো প্রভাব পড়ে কি না, সেটাই এখন দেখার মূল বিষয়।