তাম্রলিপ্ত পুরসভায় বেনজির প্রশাসনিক সংকট! বেতনহীন শতাধিক কর্মী, বোর্ডকে শোকজ করল রাজ্য

পুরপ্রধান ও উপ-পুরপ্রধানের পরপর পদত্যাগের জেরে চূড়ান্ত অচলাবস্থার মুখে পড়েছে তাম্রলিপ্ত পুরসভা। প্রশাসনিক স্থবিরতার কারণে গত জুন মাস থেকে প্রায় শতাধিক পুরকর্মীর বেতন আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর সরাসরি শোকজ করল তাম্রলিপ্ত পুরবোর্ডকে।

সঙ্কটের প্রেক্ষাপট: ২০ সদস্যের তমলুক পুরসভায় তৃণমূলের ১৮ জন এবং বিজেপির ২ জন কাউন্সিলর ছিলেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরই পুরপ্রধান বৈদ্যনাথ সিনহা পদত্যাগ করেন, যা গত ২৯ জুন গৃহীত হয়। এরপর উপ-পুরপ্রধান সুফিয়া বেগম দায়িত্বভার সামলাচ্ছিলেন। কিন্তু নতুন পুরপ্রধান নির্বাচনের জন্য ১০ জুলাই যে বৈঠক ডাকা হয়েছিল, তার তিন দিন আগেই আচমকা ইস্তফা দেন সুফিয়া। এর আগে ২৩ জুন পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিকও পদত্যাগ করেছিলেন। ফলে পুরবোর্ডের মাথায় এখন কেউই নেই।

বেতন ও পরিষেবা নিয়ে উদ্বেগ: শীর্ষ নেতৃত্বের এই ইস্তফার জেরে পুরসভার দৈনন্দিন কাজকর্ম পুরোপুরি থমকে গিয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, ৭৯ জন স্থায়ী কর্মী, চিকিৎসক ও নার্স-সহ মোট ১৩৪ জন কর্মীর জুন মাসের বেতন আটকে রয়েছে। এছাড়া জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রসহ বিভিন্ন জরুরি পরিষেবা পেতেও সাধারণ মানুষকে নাজেহাল হতে হচ্ছে।

রাজ্যের কড়া পদক্ষেপ: এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে নবান্ন। নির্বাচিত বোর্ড থাকা সত্ত্বেও কেন এমন প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হলো, তা নিয়ে তিন দিনের মধ্যে জবাব চেয়ে শোকজ করা হয়েছে। দপ্তর সূত্রে খবর, এই শোকজের জবাব পাওয়ার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বর্তমান বোর্ডকে পুনর্বহাল রেখে নতুন পুরপ্রধান নির্বাচন করা হবে, নাকি সামগ্রিকভাবে এই পুরবোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।

বিজেপির তরফে এই অচলাবস্থার জন্য সরাসরি শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করা হয়েছে। তবে দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন রাজ্যের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন তাম্রলিপ্ত পুরসভার কর্মীরা ও শহরবাসী।