কিস্তিমাত ট্রাম্পের? ইরানের বন্দরে ফের মার্কিন অবরোধ, মধ্যপ্রাচ্যে দানা বাঁধছে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা!

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা নতুন উচ্চতায়। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর, মঙ্গলবার মার্কিন সময় বিকেল ৪টে থেকে ইরানের ওপর পুনরায় নৌ-অবরোধ কার্যকর করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী সব জাহাজের ওপর এই অবরোধ বলবৎ থাকবে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অজুহাতে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা অঞ্চলটিতে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকিকে চরম মাত্রায় নিয়ে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার এই অবরোধের ঘোষণা দিয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। যদিও পরে তিনি সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন, কিন্তু অবরোধের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ২০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শতাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।

অবরোধ ঘোষণার ঠিক আগে, মঙ্গলবার ও বুধবারের মধ্যবর্তী রাতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার ওপর আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) এবং ফার্স নিউজ এজেন্সি সূত্রে খবর, আহভাজ শহর, কেশম দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাসে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই হামলায় ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ড্রোন লঞ্চপ্যাডগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। টানা চতুর্থ রাতে চলা এই মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তারা জানিয়েছে, পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে তারা হামলা চালিয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, আমেরিকা কেবল নৌ-চলাচল নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং এই অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করার জন্য ইরানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে।

হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহের পথ, এখন কার্যত যুদ্ধের রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বিঘ্নিত করার পাল্টা দোষারোপ করছে। একদিকে মার্কিন সামরিক পেশিশক্তি, অন্যদিকে ইরানের আঞ্চলিক প্রতিরোধের লড়াই—এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন ও তেহরান কোনো কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটে, নাকি পারস্য উপসাগরের এই উত্তাপ একটি ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে মোড় নেয়।