ইডির রাডারে মদন মিত্রর পরিবার! দুর্নীতির জালে কামারহাটির বিধায়ক, তারাতলার বৈঠক কি রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত?

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যখন একের পর এক শিবির বদলের জল্পনা চলছে, ঠিক সেই সময়েই কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতা। একদিকে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র ক্রমাগত চাপ, অন্যদিকে উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূল সভাপতি সন্দীপন সাহার বাড়িতে মদন মিত্রর আচমকা সফর—সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
ইডির তলব এবং তারাতলার ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। ইডি সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার সরাসরি কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। কামারহাটির বিধায়কের স্ত্রী অর্চনা মিত্র এবং তাঁদের দুই ছেলে স্বরূপ মিত্র ও শুভরূপ মিত্রকে আগামী ২২ ও ২৩ জুলাই সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যাঙ্কের নথিপত্র নিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তকারীদের দাবি, কামারহাটি ও টিটাগড় পুরসভায় অন্তত ১২৫ জন চাকরিপ্রার্থী নগদ অর্থ ও সোনাদানা ঘুষ দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। এই দুর্নীতির সঙ্গে মদন মিত্রের সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার। এরই প্রেক্ষিতে ১৩ জুন বিধায়কের বিভিন্ন ঠিকানায় ম্যারাথন তল্লাশি চালায় ইডি। ভবানীপুরের বাড়ি থেকে শুরু করে দক্ষিণেশ্বর এবং জোকার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি বিধায়ককে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল।
এই যখন পরিস্থিতি, তখন তারাতলায় সন্দীপন সাহা ও স্বর্ণকমল সাহাদের বাড়িতে মদন মিত্রের উপস্থিতি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। খবর অনুযায়ী, গতকাল রাতে কামারহাটির বিধায়ক সেখানে পৌঁছালেও স্বর্ণকমল বা সন্দীপন সাহার সঙ্গে দেখা হয়নি। তবে ফোনে তাঁদের মধ্যে কথোপকথন হয়েছে বলে জানা গেছে। এই বৈঠকের উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
এ বিষয়ে রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা দিলীপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ কড়া। তিনি সরাসরি বলেন, “কে ভালো তৃণমূল বা কে খারাপ তৃণমূল, তা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথার কারণ নেই। অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কাছে সমন যাবেই, এতে কোনো দলীয় পরিচয় ধর্তব্যের মধ্যে আসে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “মদন মিত্র সন্দীপন সাহাদের বাড়িতে গিয়েছেন, কিন্তু দেখা হয়নি। ইডি থেকে বাঁচতে চাইলে অন্য নেতাদের সঙ্গে দেখা না করে আগে ইডির অফিসারদের সঙ্গে দেখা করা বিধায়কের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে।”
সব মিলিয়ে, একদিকে পরিবারের সদস্যদের কেন্দ্রীয় এজেন্সির দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নোটিশ এবং অন্যদিকে নিজের দলেরই প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা—কামারহাটির বিধায়কের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও আইনি লড়াই এখন কোন পথে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।