দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! অক্ষয়-রবিনার পুনর্মিলনের নেপথ্যে কোন গোপন রহস্য ফাঁস করলেন পরিচালক?

নব্বইয়ের দশকের বলিউড মানেই অক্ষয় কুমার এবং রবিনা ট্যান্ডনের রোমান্টিক ম্যাজিক। বহু বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ ছবির হাত ধরে আবারও এই আইকনিক জুটিকে পর্দায় দেখার সুযোগ পেয়েছেন দর্শক। বক্স অফিসে ছবিটি রীতিমতো তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। তবে এই অসম্ভব পুনর্মিলন কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়ে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। অবশেষে সেই রহস্য ফাঁস করলেন পরিচালক আহমেদ খান।
এক সাক্ষাৎকারে আহমেদ খান জানিয়েছেন, চিত্রনাট্য লেখার সময় থেকেই তিনি জানতেন যে, ছবির একটি বিশেষ চরিত্রের জন্য রবিনা ট্যান্ডনই সেরা পছন্দ। তিনি বলেন, “গল্পে একজন কড়া ধাঁচের গ্রাম্য মহিলার চরিত্র ছিল। স্ক্রিপ্টটি পড়ার পর আমার মাথায় প্রথমেই রবিনার কথা আসে। যেহেতু অক্ষয় এবং রবিনা দুজনেই আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, তাই আমি সরাসরি রবিনার সঙ্গে যোগাযোগ করি।”
দীর্ঘদিন একে অপরের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার পর, প্রাক্তন প্রেমিক-প্রেমিকার একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব পাওয়ার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল? আহমেদ খান জানান, তাঁদের মধ্যে কোনো জড়তা বা দ্বিধা কাজ করেনি। বরং তাঁরা দুজনেই এই সুযোগ লুফে নেন। পরিচালকের কথায়, “ওরা অত্যন্ত পরিণত। দুজনেই বুঝেছিল যে, জীবনে সবাই অনেক এগিয়ে গিয়েছে। দর্শকদের বিনোদনের খাতিরে একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করাটা এখন সময়ের দাবি। দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাঁরা রাজি হয়ে যান।” তবে ছবিতে তাঁদের রসায়ন নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের কোনো কমতি নেই। পরিচালক স্পষ্ট করেছেন যে, পর্দায় তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পূর্ণ চিত্রনাট্যের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি।
বর্তমানে কমেডি ঘরানার ছবিগুলো দর্শক টানতে যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ কীভাবে এত বড় সাফল্য পেল? পরিচালক জানান, তাঁরা সস্তা বা কুরুচিকর হাস্যরস থেকে পুরোপুরি দূরে ছিলেন। ৫ বছর থেকে ৯৫ বছর—সব বয়সের মানুষ যাতে একসঙ্গে বসে উপভোগ করতে পারেন, সেই ‘ফ্যামিলি এন্টারটেইনমেন্ট’ ফর্মুলাই তাঁদের মূল হাতিয়ার ছিল। এই ছবিতে ৩০ জনেরও বেশি তারকা অভিনয় করেছেন। আহমেদ খান জানান, পুরো কাস্টকে কয়েকটি ‘মণ্ডলী’ বা গ্রুপে ভাগ করে কাজ করার ফলেই স্ক্রিন টাইম বণ্টনে কোনো সমস্যা হয়নি।
অক্ষয়-রবিনার এই পেশাদারিত্বের পেছনে অবশ্য রয়েছে দীর্ঘ অতীত। নব্বইয়ের দশকে ‘মোহরা’ ছবির সেট থেকে শুরু হওয়া তাঁদের প্রেম একসময় বাগদান পর্যন্ত গড়িয়েছিল। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। কয়েক দশকের দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে তাঁরা যখন ফের ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন, তখন পুরোনো সব তিক্ততা অতীত। ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিষ্ঠিত এই দুই মেগাস্টার এখন কেবল পেশাদারিত্ব ও দর্শকদের চাহিদাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। দর্শকও তাঁদের এই পেশাদার রসায়নকে দু-হাত ভরে গ্রহণ করেছেন।