‘হ্যালো… আমি দিব্যা বলছি’-মেসেজ দেখেই গলে গেলো মন, খোয়ালেন ২৭ কোটি টাকা

হ্যালো… আমি দিব্যা বলছি—এই সাধারণ একটি মেসেজই যে কারো সর্বস্ব কেড়ে নিতে পারে, তা হয়তো ভাবতেও পারেননি গোয়ালিয়রের প্রবীণ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) অশোক বিজয়বর্গীয়। ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের লোভে পড়ে তিনি ও তাঁর ৩৫ জন পরিচিত ব্যক্তি মিলে খোয়ালেন প্রায় ২৭ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা (২১ কোটি ৬ লক্ষ রুপি)। ভারতের অন্যতম বৃহত্তম এই ক্রিপ্টো জালিয়াতির ঘটনা বর্তমানে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
প্রতারণার কৌশল: ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘দিব্যা’ পরিচয়ে এক নারী বিনিয়োগ উপদেষ্টার বার্তা পান অশোকবাবু। প্রাথমিক বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রতারকরা প্রথমে ছোট অংকের বিনিয়োগে মুনাফা ফেরত দেয়। এতেই বৃদ্ধের মনে গভীর আস্থা জন্মায়। এরপর তাঁকে একটি ভুয়ো ট্রেডিং পোর্টালে যুক্ত করে বিটকয়েন ও ইউএসডিটি-তে (USDT) বড় অংকের বিনিয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়। অশোকবাবুর ওপর ভরসা করে তাঁর ব্যবসায়ী পরিচিতরাও এতে বিনিয়োগ করেন।
টাকা তুলতে গিয়েই বিপত্তি: ভুয়ো পোর্টালে যখন ৩৩ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার আকাশচুম্বী মুনাফা দেখানো হয়, তখন অশোকবাবু টাকা তুলতে যান। তখনই আসল রূপ বেরিয়ে আসে। প্রতারকরা আয়কর ও ‘রিস্ক মার্জিন’ বাবদ আরও প্রায় ১২ কোটি টাকা দাবি করে। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, তিনি মহাপ্রতারণার শিকার।
জটিল চার স্তরের ব্যাংকিং জাল: তদন্তে নেমে গোয়ালিয়র স্টেট সাইবার সেল যা দেখেছে, তা রীতিমতো惊কপ্রদ। এই বিশাল অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতে প্রতারকরা ২০ হাজার ৪৯টি ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে চার স্তরের ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছে। কর্নাটক, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গসহ ১২টি রাজ্যের প্রায় ২০ হাজার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই টাকা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপ: এখন পর্যন্ত পুলিশ প্রায় ২ কোটি টাকা অবরুদ্ধ (Freeze) করতে পেরেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা রুজু করে মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে ডিজিটাল ট্র্যাকিং শুরু করেছে সাইবার পুলিশ।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, অনলাইন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অতি লোভই কাল হয়ে দাঁড়ায়। অপরিচিত কোনো মেসেজ বা নম্বর থেকে আসা বিনিয়োগের প্রলোভনে কখনোই পা দেওয়া উচিত নয়। আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিটি ধাপ যাচাই করা এখন সময়ের দাবি।