মালদায় রক্তগঙ্গা! মাদক কারবারের জেরে দুই ভাইকে ডেকে এনে নৃশংস কোপ, মৃত ১

মালদার কালিয়াচকের জালুয়াবাথাল গ্রামে মাদক কারবারের জেরে ঘটল এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। প্রতিবেশী মাদক মাফিয়ার বেআইনি টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে দুই ভাইকে ডেকে এনে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নৃশংসভাবে কোপানোর অভিযোগ উঠল প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে আশরাফুল শেখ নামের এক ব্যক্তির। তাঁর ছোট ভাই সাদিকুল শেখ বর্তমানে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত প্রতিবেশী পিলু শেখ দীর্ঘ দিন ধরেই এলাকায় নিষিদ্ধ ব্রাউন সুগারের কারবার চালাচ্ছে। মাদক চক্রের অবৈধ উপার্জনের ভাগাভাগি নিয়ে নিহত আশরাফুল ও তাঁর ভাই সাদিকুলের সঙ্গে পিলুর বেশ কিছুদিন ধরে বিবাদ চলছিল। পরিবারের অভিযোগ, আজ সকালে পিলু ও তার দলবল দুই ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে বের করে আনে। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই হাঁসুয়া ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আক্রমণ এতটাই বীভৎস ছিল যে, ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় দুই ভাই লুটিয়ে পড়েন। গ্রামবাসীরা চিৎকার শুনে ছুটে এলে হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। আশরাফুল ও সাদিকুলকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা আশরাফুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃতের পরিবারের এক সদস্য কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “টাকার লেনদেনের একটা গন্ডগোল ছিল। ওরা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে সরাসরি হাঁসুয়া দিয়ে কোপাতে শুরু করল। আমার এক ছেলে মারা গেল, অন্যজন হাসপাতালে ছটফট করছে। আমরা অভিযুক্ত পিলু ও তার ছেলেদের ফাঁসির সাজা চাই।”

উল্লেখ্য, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বারুইপুরের ঘটনার পর থেকেই মাদক বিরোধী অভিযানের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। ড্রাগ কারবারের ফলে রাজ্যে অপরাধের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার এবার কড়া হাতে তা দমনের বার্তা দিয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর সেই কড়া বার্তার মধ্যেই কালিয়াচকের এই নৃশংস ঘটনা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কালিয়াচক থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতদেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে এবং অভিযুক্ত পিলু শেখ ও তার সঙ্গীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। নৃশংস এই খুনের ঘটনায় গ্রামবাসীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।