ইতিহাস গড়ল তিলোত্তমা! কলকাতা মেট্রোর গ্রিন লাইনে মিলল চালকবিহীন ট্রেন চালানোর চূড়ান্ত অনুমতি

দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর পথ অনুসরণ করে এবার প্রযুক্তির এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল কলকাতা। বহু প্রতীক্ষার পর অবশেষে কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটির (CRS) কাছ থেকে কলকাতা মেট্রোর গ্রিন লাইন বা ইস্ট-ওয়েস্ট করিডোরে চালকবিহীন মেট্রো চালানোর চূড়ান্ত অনুমতি মিলল। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে খুব শীঘ্রই হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত লাইনে ছুটবে অত্যাধুনিক চালকবিহীন ট্রেন।

মেট্রো পরিষেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘কমিউনিকেশন বেসড ট্রেন কন্ট্রোল’ বা CBTC সিগন্যাল সিস্টেম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কলকাতা মেট্রোর নর্থ-সাউথ লাইন এবং ইস্ট-ওয়েস্ট করিডোরের মধ্যে একমাত্র ইস্ট-ওয়েস্ট করিডোরেই এই অত্যাধুনিক CBTC প্রযুক্তি রয়েছে। সিগন্যাল সিস্টেমের এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই গ্রিন লাইনে চালকবিহীন মেট্রো পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দিল্লির ম্যাজেন্টা ও পিঙ্ক লাইন এবং বেঙ্গালুরুর ইয়েলো লাইনে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে চালকবিহীন মেট্রো সাফল্যের সাথে চলাচল করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির GoA-4 (Grade of Automation-4) প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ট্রেন অ্যাটেনডেন্টেরও আর প্রয়োজন হয় না, যা আগামী দিনে কলকাতার জন্য একটি বড় সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

অন্যদিকে, গ্রিন লাইনের এই সুখবরের পাশাপাশি অরেঞ্জ লাইনের কাজ নিয়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। চিংড়িঘাটায় বাইপাসের ওপর ৩১৭ থেকে ৩১৯ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে গার্ডার বসানোর দীর্ঘদিনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL)-এর ইঞ্জিনিয়াররা। প্রায় ১৮ মাস ধরে ঝুলে থাকা এই জটিল কাজটি সম্পন্ন হওয়ায় অরেঞ্জ লাইনের কাজ এখন অনেকটাই গতি পেয়েছে। একসময় বিভিন্ন প্রশাসনিক টানাপোড়েনে এই কাজ আটকে থাকলেও, এখন তা সম্পূর্ণ হওয়ায় শহরবাসীর জন্য যাতায়াত আরও সুগম হতে চলেছে।

উল্লেখ্য, কলকাতার মেট্রো মানচিত্র এখন ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। ইস্ট-ওয়েস্ট করিডোর বা গ্রিন লাইন হাওড়া ময়দান ও সল্টলেক সেক্টর ফাইভকে সংযুক্ত করেছে। পাশাপাশি জোকা থেকে মাঝেরহাট পর্যন্ত পার্পেল লাইন, কবি সুভাষ থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত অরেঞ্জ লাইন এবং নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ইয়েলো লাইনের সংযোগ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। নতুন এই প্রযুক্তির সংযোজন কলকাতা মেট্রোকে বিশ্বমানের পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে দিল। শহরবাসীর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কবে থেকে সাধারণের জন্য এই চালকবিহীন পরিষেবা চালু হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে কলকাতা।