উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ফের অশান্তির কালো মেঘ! নাগাল্যান্ডে আইইডি বিস্ফোরণে শহিদ অসম রাইফেলসের জওয়ান, আহত চার

মণিপুরে অসম রাইফেলসের কনভয়ে হামলার ঠিক এক সপ্তাহের মধ্যেই উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নাগাল্যান্ডে ঘটল এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ। সোমবার বিকেলে নাগাল্যান্ডের চুমোকেডিমা জেলার সুখোভি এলাকায় একটি সন্দেহজনক আইইডি (IED) বিস্ফোরণে ২৮ অসম রাইফেলসের এক জওয়ান শহিদ হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন জওয়ান, যাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
নিহত জওয়ানের নাম হাবিলদার মহম্মদ ইকবাল। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, সুখোভি এলাকায় অবস্থিত অসম রাইফেলস ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের এক অংশ থেকে জওয়ানদের একটি দল যখন রুটিনমাফিক প্রশিক্ষণের জন্য অন্য অংশে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই অতর্কিত এই হামলাটি চালানো হয়। এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে শান্ত থাকায় সেখানে নিয়মিত কোনো সামরিক অভিযান পরিচালিত হয় না। ফলে এই বিস্ফোরণটি সেনার কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। কোহিমার পিআরও (ডিফেন্স) প্রাথমিক তদন্তের পর জানিয়েছেন, এটি একটি পরিকল্পিত আইইডি বিস্ফোরণ বলেই সন্দেহ করা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই এলাকাটি ঘিরে ফেলে সেনা ও পুলিশ। অপরাধীদের চিহ্নিত করতে এবং ওই অঞ্চলে আরও কোনো বিস্ফোরক লুকানো আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশাল চিরুনি তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে। তবে পাহাড়ী অঞ্চল এবং বর্তমানে সেখানে প্রতিকূল আবহাওয়া থাকায় তল্লাশি অভিযানে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে তদন্তকারীদের।
এই কাপুরুষোচিত হামলার কড়া নিন্দা করেছেন নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চুমোকেডিমার এই বোমা বিস্ফোরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। সভ্য সমাজে এমন বর্বরোচিত কাজের কোনো স্থান নেই। হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা। ঘটনার পেছনে থাকা দুষ্কৃতীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। কোনোভাবেই আমাদের রাজ্যের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে দেওয়া হবে না।”
উল্লেখ্য, মাত্র সাতদিন আগে মণিপুরের উখরুল জেলায় অসম রাইফেলসের কনভয়ে সন্দেহজনক উগ্রপন্থীদের হামলায় দুই জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। চলতি বছরে মণিপুরে এটি ছিল চতুর্থ বড় প্রাণঘাতী আক্রমণ। তার ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় নাগাল্যান্ডের এই বিস্ফোরণ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। একের পর এক এই হামলা যে উত্তর-পূর্বের সীমান্ত সুরক্ষায় এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। জওয়ানদের আত্মবলিদান বৃথা যাবে না, এই শপথ নিয়েই প্রশাসন অপরাধীদের সন্ধানে মরিয়া হয়ে উঠেছে।