মঞ্চে একঝাঁক কিংবদন্তি! সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের বিয়ে করার ইচ্ছে, দীপঙ্কর দে’র সত্যজিৎ-স্মৃতিতে আবেগঘন রবীন্দ্র সদন

‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার আর্টিস্টস ফোরাম’ আয়োজিত ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি’ অনুষ্ঠানে এক বর্ণময় সন্ধ্যার সাক্ষী রইল টলিউডের অন্দরমহল। এদিন রবীন্দ্র সদনের মঞ্চে যেন ইতিহাসের পুনর্জন্ম ঘটল। একঝাঁক প্রবীণ শিল্পীকে সম্মান জানাতে আজকের প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেতারা যেমন হাজির ছিলেন, তেমনই উপস্থিত ছিলেন রূপালী পর্দার কিংবদন্তিরা। তবে শুধু রবীন্দ্র সদনই নয়, ফোরামের পক্ষ থেকে বাড়িতে গিয়েও সম্মান জানানো হয় বর্ষীয়ান অভিনেতা নির্মল কুমার, চিত্রা সেন এবং সন্ধ্যা রায়কে।
এদিন মঞ্চে কিংবদন্তিদের হাত ধরে নিয়ে আসেন তৃণা, ঊষসী, ঐন্দ্রিলা, সৌমিতৃষা, রণজয়, শুভশ্রী ও স্বস্তিকারা। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন আবির চট্টোপাধ্যায় এবং যীশু সেনগুপ্ত। সুদীর্ঘ অভিনয়জীবনের টুকরো স্মৃতিতে ভরপুর ছিল গোটা সন্ধ্যা। বর্ষীয়ান অভিনেতা দীপঙ্কর দে নিজের প্রথম অভিনয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ফিরে যান সত্যজিৎ রায়ের কাছে। তিনি বলেন, “মাণিক দা’র ‘সীমাবদ্ধ’তে একটা ছোট্ট চরিত্র করেছিলাম। ওনার কাছে পৌঁছনো খুব কঠিন ছিল। টেলিফোন ডায়েরি ঘেঁটে ওনার নম্বর জোগাড় করে ফোন করি। পরদিন যখন ওনার বাড়িতে যাই, উনি দরজা খুলে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন কেন এসেছি। চা খেতে খেতে উনি আমাকে স্কেচ করছিলেন, সম্ভবত আমাকেই আঁকছিলেন। শেষে বললেন, ‘একটা ছোট রোল আছে, করবেন?’ আমি বলেছিলাম, আপনার সঙ্গে কাজ করাই ভাগ্যের।”
মঞ্চে এদিন সবার নজর ছিল সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের দিকে। সঞ্চালক আবির চট্টোপাধ্যায় যখন মজা করে জানতে চান, “তুমি নাকি এখনও বিয়ে করতে চাও?” সাবিত্রী দেবী তৎক্ষণাৎ বলেন, “হ্যাঁ চাই তো। কেননা এখনও বিয়ে হয়নি আমার।” আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি বলেন, “জীবনে ভালো-মন্দ সবই দেখেছি। শুধু ভেবেছি আর হেঁটেছি। হাঁটতে হাঁটতে আজ এমন একটা মঞ্চে এসে পৌঁছেছি যেটা ইট-কাঠ-পাথর দিয়ে নয়, আপনাদের ভালোবাসা আর শুভেচ্ছা দিয়ে তৈরি।” তাঁর এই কথায় করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো রবীন্দ্র সদন।
‘জন্মভূমি’ ধারাবাহিকের সেই চিরচেনা ‘পিসিমা’ অর্থাৎ মিতা চট্টোপাধ্যায়ও ছিলেন অত্যন্ত আবেগঘন। তিনি বলেন, “বড্ড বেশি একক হয়ে পড়েছিলাম। সেই একাকীত্ব থেকে আজ মুক্ত হলাম এই প্রজন্মের হাত ধরে। এর থেকে বড় পাওয়া আর কিছু নেই।”
অনুষ্ঠানের শেষলগ্নে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বর্ষীয়ান অভিনেতাদের উদ্দেশ্যে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, “আজ আমরা যারা নিজেকে তারকা বলি, তার নেপথ্যে একটা সিস্টেম কাজ করে। কিন্তু এই মানুষগুলো যখন কাজ করতেন, তখন তেমন কিছুই ছিল না। শুধু নিজেদের বিশ্বাস নিয়ে তাঁরা এগিয়ে গিয়েছেন। তাঁরা না থাকলে আজ আমরা কেউ কাজ করতে পারতাম না।” প্রসেনজিতের কথায় যেন গোটা টলিউড একাত্ম হয়ে উঠেছিল। সবশেষে রূপাঞ্জনা মিত্রর কণ্ঠে ভেসে আসে—”আসছে বছর আবার হবে।” একরাশ স্মৃতি আর ভালোবাসায় মোড়া এই সন্ধ্যা শিল্পীদের হৃদয়ে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।