দেশে ফিরলেই সোজা জেল! ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে নিয়ে বড় ঘোষণা বিদেশ প্রতিমন্ত্রীর

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। আর এই পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এলো এক কড়া বার্তা। বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, শেখ হাসিনা দেশে পা রাখা মাত্রই তাঁকে আইন অনুযায়ী বন্দি করে জেলে পাঠানো হবে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে।

গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। গণবিক্ষোভের চরম উত্তেজনার মাঝে তিনি ঢাকা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। তখন থেকেই তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন। তবে গত সপ্তাহে হাসিনার ঘনিষ্ঠ মহল থেকে খবর ছড়ায় যে, তিনি চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা করছেন। এই জল্পনা শুরু হতেই বাংলাদেশের অন্দরে অস্থিরতা তৈরি হয়। হাসিনার প্রত্যাবর্তনের এই খবরকে ঘিরেই সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বিএসএস-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, “শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করেন, তবে বর্তমান আইন ও সংবিধান অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁকে সরাসরি কারাগারে পাঠানো হবে।” তিনি আরও জানান, হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার কূটনৈতিক স্তরে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপই গ্রহণ করছে। যদিও এই প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ এবং এর জন্য নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।

এর আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, “প্রত্যর্পণ চুক্তি কিংবা আন্তর্জাতিক রীতিনীতি—যে আইনি পথেই হোক না কেন, কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে যথাযথ পদ্ধতি মেনে চলতে হয়। আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কোনো ফাঁক নেই, কাজ চলছে।” তবে ভারত সরকার এ ক্ষেত্রে কতটা সহযোগিতা করছে বা আইনি কোনো জটিলতা আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর এড়িয়ে গেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, হাসিনার ফেরার পরিকল্পনার খবর সামনে আসার পরই বর্তমান সরকার তাদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে। ছাত্র আন্দোলনের পরবর্তী বাংলাদেশে হাসিনার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর ফেরা মানেই নিশ্চিত কারাবাস—সেটাই স্পষ্ট করে দিল বিদেশ মন্ত্রক। এখন দেখার, ডিসেম্বরের সেই সম্ভাব্য সময়ের আগে কূটনীতি ও রাজনীতির সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়।