ভাসছে তিলোত্তমা! একটানা বৃষ্টিতে নাজেহাল কলকাতা, আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও দুর্যোগের আশঙ্কা

বর্ষার দাপটে নাজেহাল মহানগরী। গত কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে শহরের নিচু এলাকাগুলোতে জলমগ্ন হওয়ার পাশাপাশি পানীয় জলের সঙ্কটে ভুগছেন সাধারণ মানুষ। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, এই দুর্ভোগ এখনই কাটছে না। মঙ্গলবার থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টাও কলকাতার আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং দফায় দফায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃষ্টির খতিয়ান ও বর্তমান পরিস্থিতি
গত ১৩ জুলাই সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে আজ ১৪ জুলাই সকাল ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত শহরে মোট ৫৫.৪ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বৃষ্টির এই একই ধারা অব্যাহত ছিল। বৃষ্টির প্রভাবে শহরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা নিচে নেমেছে। আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৪° সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৪° কম। অন্যদিকে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬.০° সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৯° কম। তবে স্বস্তির বৃষ্টির আড়ালে রয়েছে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় আর্দ্রতার মাত্রা ৭৬ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। ফলে বৃষ্টিহীন সময়ে গুমোট গরম ও অস্বস্তি থেকে নগরবাসীর মুক্তি মিলছে না।
উত্তরবঙ্গে দুর্যোগের লাল সঙ্কেত
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের মতো জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। টানা বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিয়ে প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বহু নদীর জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের প্রস্তুতি
বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন এলাকাগুলোতে জল নিকাশির কাজ জোরকদমে চালানোর নির্দেশ দিয়েছে পুরসভা। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ৩০° এবং ২৫° সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকবে। আকাশ মেঘলা থাকায় সূর্যের তাপ সরাসরি না পড়লেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য থাকায় অস্বস্তি বজায় থাকবে। সব মিলিয়ে, বর্ষার এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় দক্ষিণবঙ্গে মাঝারি বৃষ্টি আর উত্তরবঙ্গে ভারী বর্ষণের হাত থেকে আপাতত রেহাই নেই রাজ্যবাসীর। আবহাওয়া দফতরের এই নতুন পূর্বাভাসে কার্যত কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সাধারণ মানুষের।