আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারে বড় পরিবর্তন, রাঁধুনিদের বেতন বৃদ্ধি ও এলপিজি সুবিধা নিয়ে এল আপডেট

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা পরিষেবাকে আরও উন্নত এবং স্বচ্ছ করে তুলতে একগুচ্ছ যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্য সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার থেকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবারের মান যেমন উন্নত করা হবে, তেমনই স্কুলপড়ুয়া শিশুদের পুষ্টি সুনিশ্চিত করতে খাদ্য বাবদ বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ অগাস্ট, ২০২৬ থেকে এই নতুন বরাদ্দ কার্যকর হবে, যা রাজ্য বাজেটের প্রতিশ্রুতি পূরণের দিকে এক বড় পদক্ষেপ।
স্কুলে পুষ্টিকর আহার ও নতুন বাজেট
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ‘এক্স’ হ্যান্ডলে জানিয়েছেন, ‘পিএম-পোষণ’ (PM-POSHAN) প্রকল্পকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্যেই সরকার এই বিশেষ আর্থিক অনুমোদন দিয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের প্রায় ৫১.৬১ লক্ষ শিক্ষার্থীর জন্য মাথাপিছু দৈনিক রান্নার খরচ ৬.৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে শিশুরা আগের চেয়ে অনেক বেশি পুষ্টিকর আহার পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রান্নাঘর আধুনিকীকরণ ও এলপিজি সুবিধা
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে রান্নার পরিবেশকেও নিরাপদ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ‘পিএম-পোষণ’ প্রকল্পের আওতাভুক্ত রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে ১০০ শতাংশ এলপিজি সংযোগ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এজন্য প্রতিটি ইউনিটে ৩,০০০ টাকা করে এলপিজি সংযোগ স্থাপনের খরচ বহন করা হবে। এই খাতে প্রায় ৪১৪.৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো ধোঁয়াহীন, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ রান্নাঘর তৈরি করা।
রাঁধুনিদের সাম্মানিক বৃদ্ধি
স্কুলের রান্নার কাজে নিযুক্ত রাঁধুনি-সহায়কদের (Cook-cum-Helpers) আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে তাঁদের মাসিক সাম্মানিক ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রায় ২.২৪ লক্ষ রাঁধুনি-সহায়কের মাসিক ভাতা ২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করার অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার। এই পরিবর্তনের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে এবং এর জন্য প্রায় ২২৪ কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
ভবিষ্যতের লক্ষ্যে বিনিয়োগ
সব মিলিয়ে এই প্যাকেজে প্রায় ৬৩৯ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করেছেন, “আজকের শিশুদের জন্য বিনিয়োগ করা মানেই বাংলার ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করা।” তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র সংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তন নয়, বরং প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্যকর বেড়ে ওঠা এবং শিক্ষাক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করার প্রতি সরকারের অবিচল অঙ্গীকার।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের গ্রামীণ এবং শহরতলির স্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির হার বৃদ্ধির পাশাপাশি ড্রপ-আউট কমানোর ক্ষেত্রেও বড় সাফল্য মিলবে। আগামী ১ অগাস্ট থেকে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর থেকে তার সুফল রাজ্যের প্রান্তিক পরিবারের শিশুরা সরাসরি পেতে শুরু করবে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে রাজ্যের এই বিপুল ব্যয় বরাদ্দের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও পুষ্টিবিশেষজ্ঞরা।