ব্যবসায় খদ্দের নেই? চাকরি আটকে? ফিটকিরির এই টোটকা ফিরবে ভাগ্য!

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাড়ভাঙা খাটুনির পরেও পকেট ফাঁকা? ব্যবসার দোকানে খদ্দেরের ভিড় কমেছে? নাকি ইন্টারভিউ ভালো দিয়েও কাঙ্ক্ষিত চাকরিটি মিলছে না? জ্যোতিষী ও বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এসবের পেছনে মূল কারণ হতে পারে আপনার বাড়ির জমাট বাঁধা নেগেটিভ এনার্জি বা বাস্তু দোষ। বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে থাকলে হাজারো চেষ্টা করেও সাফল্য ধরা দেয় না। পুজো-পাঠ করেও যখন কাজ হচ্ছে না, তখন বাস্তুশাস্ত্রের একটি অত্যন্ত সহজ ও সস্তা কিন্তু পরীক্ষিত উপায় অবলম্বন করতে পারেন। আর তা হলো—আমাদের রান্নাঘরে থাকা সাধারণ ‘ফিটকিরি’।

বাস্তুশাস্ত্র মতে, ফিটকিরিকে বলা হয় ‘প্রাকৃতিক শুদ্ধিকারক’। দাড়ি কাটার পর রক্ত বন্ধ করা কিংবা জল পরিষ্কার করা ছাড়াও, নেগেটিভ এনার্জি শুষে নেওয়ার এক অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে এই উপাদানের মধ্যে। জীবনের বাধা কাটাতে ফিটকিরির ৫টি শক্তিশালী টোটকা নিচে দেওয়া হলো:

১. সংসারে শান্তি ফেরাতে: বাড়িতে কি প্রতিনিয়ত অশান্তি, স্বামী-স্ত্রীর ভুল বোঝাবুঝি বা সন্তানদের অবাধ্যতা চলছে? বাস্তু মতে এর পেছনে বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে নেগেটিভ এনার্জি দায়ী। এর সমাধান হলো, এক টুকরো ফিটকিরি লাল কাপড়ে বেঁধে বেডরুমের ওই কোণায় লুকিয়ে রাখুন। প্রতি শনিবার পুরনো ফিটকিরি বদলে নতুন টুকরো রাখুন। মাত্র ২১ দিনেই পরিবর্তনের আভাস পাবেন।

২. ব্যবসা ও চাকরিতে উন্নতি: দোকানে খদ্দের টানতে বা আটকে থাকা টাকা উদ্ধারে বৃহস্পতিবার স্নানের পর এক বালতি জলে এক চামচ ফিটকিরি গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। সেই জল দিয়ে দোকান বা অফিসের মেঝে, ক্যাশবাক্স এবং মূল দরজা মুছুন। মুছতে মুছতে মনে মনে ‘ওম শ্রীং মহালক্ষ্ম্যৈ নমঃ’ জপ করুন। এতে নজর দোষ কাটে এবং অর্থের পথ প্রশস্ত হয়।

৩. নেগেটিভ এনার্জি তাড়াতে: বাড়িতে ঢুকলেই যদি মন ভার হয়ে যায়, তবে মূল দরজার পাল্লার ভেতরের দিকে কালো সুতোয় ফিটকিরি বেঁধে ঝুলিয়ে দিন। এছাড়া বাড়ির চার কোণে চার টুকরো ফিটকিরি রেখে দিন। ৭ দিন পর সেগুলো তুলে প্রবাহিত জলে ভাসিয়ে দিন। ভুলেও ডাস্টবিনে ফেলবেন না, কারণ এগুলো বাড়ির সব নেতিবাচক শক্তি টেনে নেয়।

৪. মনোযোগ ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে: পড়ার টেবিল বা অফিসের ড্রয়ারের ডানদিকের কোণায় একটা ফিটকিরির টুকরো রাখুন। প্রতিদিন সকালে এর দিকে তাকিয়ে ৩ বার ‘ওম গং গণপতয়ে নমঃ’ বলুন। এটি মস্তিষ্কের নেতিবাচক চিন্তা দূর করে মনোযোগ ও কনফিডেন্স বাড়াতে সাহায্য করে।

৫. সুনিদ্রার জন্য: রাতে দুঃস্বপ্ন বা বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যা থাকলে বালিশের নিচে এক টুকরো ফিটকিরি রাখুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে সেটি বাড়ির বাইরে ফেলে দিন। ৭ দিনের মধ্যেই গভীর ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি অনুভব করবেন।

৩টি নিয়ম মানতেই হবে:
প্রথমত, যে ফিটকিরি টোটকার কাজে ব্যবহৃত হবে, তা কখনোই রান্নায় ব্যবহার করবেন না। দ্বিতীয়ত, ব্যবহারের পর ফিটকিরি বাড়িতে রাখবেন না, জলে ভাসিয়ে দিন। তৃতীয়ত, রবিবার, মঙ্গলবার বা অমাবস্যার দিন এই টোটকা শুরু করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। মনে রাখবেন, এটি বিশ্বাসের মাধ্যমে মনকে পজিটিভ রাখার একটি মাধ্যম। কর্ম ও চেষ্টার সঙ্গে এই টোটকা আপনাকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।