‘কালীঘাটের বাড়িতেই শহিদ দিবস করুন মমতা!’ ২১ জুলাই নিয়ে তীব্র কটাক্ষ সুকান্ত মজুমদারের

একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবস নিয়ে এবার তৃণমূল নেত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের এক শ্রমিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের জনসভায় এখন আর তেমন লোক হয় না। সেই সূত্র ধরেই তাঁর ব্যঙ্গোক্তি, “একুশে জুলাইয়ের সভায় যা লোক হবে, তাতে ধর্মতলার মতো বড় মাঠের প্রয়োজন নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরং কালীঘাটের টালির চালের বাড়িতেই শহিদ দিবস পালন করুন, সেখানেই তাঁদের বসার জায়গা হয়ে যাবে।”
এদিন সীমান্তের মাদ্রাসাগুলির ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুর চড়িয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পুরনো মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বাম জমানাতেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মাদ্রাসাগুলিকে সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর বলে সতর্ক করেছিলেন। আমাদের সরকারও বদ্ধপরিকর, কোনো মাদ্রাসায় দেশবিরোধী কার্যকলাপের প্রমাণ মিললেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দমদম বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ানো মসজিদটি সরিয়ে ফেলার বিষয়েও এদিন তিনি মুখ খোলেন। বালুরঘাটের সাংসদের কথায়, “দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা ঝুলে ছিল, কিন্তু এতদিন কেউ তা সরানোর সাহস দেখায়নি। আমাদের সরকার সেই সাহস দেখিয়েছে এবং বিমানবন্দরের স্বার্থে মসজিদ সরানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।”
তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের দখলদারি নিয়ে সুকান্ত মজুমদারের মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, “তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চার হাজার কোটি টাকা জমা আছে। সেই টাকা নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে যে লড়াই চলছে, তাতে তৃণমূল নেত্রীর পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।”
রাজ্যের শিল্পায়ন নিয়েও এদিন নিজের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। তিনি জানান, ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত বা স্থানীয় স্তরের কোনো শংসাপত্রের প্রয়োজন নেই। সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, এতদিন এই শংসাপত্র ছিল কাটমানি খাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বর্তমান সরকার সেই সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।
লটারি কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। এ প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদারের হুঁশিয়ারি, “অন্যায় করে কেউ যদি ভাবেন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যাবেন, তবে সেটা ভুল। পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করবেই।” সবশেষে শ্রমিক সংগঠনের নাম করে তোলাবাজি রুখতে সাধারণ মানুষকে পুলিশের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।