গরু কোরবানি নিয়ে বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ

তামিলনাড়ু সরকারকে গরু ও বাছুর জবাই সংক্রান্ত বিষয়ে বড় ধরনের স্বস্তি দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (১৩ জুলাই) বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মাদ্রাজ হাইকোর্টের গত মে মাসের সেই রায়ের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রদান করেছে, যেখানে রাজ্যজুড়ে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একইসঙ্গে আদালত এ বিষয়ে নোটিশ জারি করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে জবাব তলব করেছে।
প্রেক্ষাপট ও হাইকোর্টের বিতর্কিত নির্দেশ
২০২৬ সালের মে মাসে মাদ্রাজ হাইকোর্ট একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে নির্দেশ দিয়েছিল যে, তামিলনাড়ু সরকার যেন বকরিদ বা অন্য যেকোনো দিনে রাজ্যে গরু বা বাছুর জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, ইসলাম ধর্মে গরু কোরবানি কোনো বাধ্যতামূলক প্রথা নয়। এই নির্দেশের ফলে রাজ্যব্যাপী প্রবল বিতর্ক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানায়, মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ের যে অংশে রাজ্যজুড়ে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর ঢালাও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তা আপাতদৃষ্টিতে সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। হাইকোর্টের এই কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত সাময়িকভাবে ওই আদেশের বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকারের আইনি লড়াই
তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, মাদ্রাজ হাইকোর্টের আদেশটি রাজ্যের ১৯৫৮ সালের ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন’-এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সিংভি যুক্তি দেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ১০ বছরের বেশি বয়সের যে সকল গরু কৃষি বা প্রজননের কাজে অনুপযুক্ত, সেগুলোকে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে জবাই করা আইনত বৈধ।
এছাড়া ১৯৬০ সালের পশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইন এবং ২০০১ সালের কসাইখানা বিধিমালাসহ অন্যান্য প্রবিধানে পশু জবাই নিয়ন্ত্রণের বিধান থাকলেও, কোনোটিতেই সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কথা বলা নেই। সরকারের দাবি, হাইকোর্ট এমন একটি প্রতিকারের নির্দেশ দিয়েছে যা আবেদনকারী নিজেই চাননি। মূল আবেদনে কেবল জনসমক্ষে পশু জবাই বন্ধ করে অনুমোদিত কসাইখানায় জবাই নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্ট তার এখতিয়ার অতিক্রম করে পুরো রাজ্যে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়েছে।
মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি
হাইকোর্টের এই নির্দেশকে ‘স্ববিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়ে তামিলনাড়ু সরকার জানায়, পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই জনসমক্ষে পশু জবাই রোধে ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ধর্মীয় বলিদান যেন শুধুমাত্র অনুমোদিত ও আবদ্ধ স্থানেই হয় তা নিশ্চিত করেছে। সুপ্রিম কোর্টের এই অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের ফলে রাজ্য প্রশাসনের ওপর চাপ কিছুটা কমল। মামলার পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে আইনি ও সামাজিক স্তরে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।