“এই দলটা কখনও হাল ছাড়ে না”-সেমিফাইনালের আগে ইংল্যান্ডকে বার্তা মেসির

কাতার বিশ্বকাপের রূপকথা অব্যাহত! সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে এই জয়ের পরেও আত্মতুষ্টিকে ধারেকাছে ঘেঁষতে দিচ্ছেন না কোচ লিওনেল স্কালোনি ও অধিনায়ক লিওনেল মেসি। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে প্রতিটি ম্যাচকেই তারা দেখছেন ‘অগ্নিপরীক্ষা’ হিসেবে।

সুইজারল্যান্ড ম্যাচে লড়াইয়ের ময়দান: সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়টি মোটেও সহজ ছিল না। সুইজারল্যান্ড ম্যাচে আর্জেন্টিনার ডিফেন্স ও মিডফিল্ডকে বেশ চাপে রেখেছিল। অতিরিক্ত সময়ে আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের গোলই শেষপর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়। ম্যাচ শেষে স্কালোনি স্বীকার করেন, “সুইজারল্যান্ড আমাদের খুব কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছিল। তবে দলের লড়াই করার ক্ষমতা আমাদের ডিএনএ-র অংশ।” তিনি বিশেষভাবে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের অবদানের প্রশংসা করেছেন।

মেসির বার্তা ও সেমিফাইনালের প্রস্তুতি: অধিনায়ক লিওনেল মেসি জয়ের কৃতিত্ব দিয়েছেন দলের অটুট বিশ্বাসকে। তিনি বলেন, “এই দলটা কখনও হাল ছাড়ে না। প্রতিটি ম্যাচেই আমরা নতুন করে লড়াই করছি।” সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে মেসি জানান, তিনি প্রতিপক্ষ নিয়ে না ভেবে নিজেদের খেলার উন্নতির দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন। ইংল্যান্ডকে ‘ফুটবলের মহাশক্তি’ হিসেবে অভিহিত করলেও মেসি আত্মবিশ্বাসী দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নিয়ে।

ইংল্যান্ডের চ্যালেঞ্জ ও রিকভারি: সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মোকাবিলা করার আগে হাতে সময় খুব কম। তাই ফুটবলারদের ধকল কাটাতে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছেন না কোচ স্কালোনি। সুইজারল্যান্ড ম্যাচের প্রথম একাদশের ফুটবলারদের ফুল অনুশীলনে না নামিয়ে বরং হালকা জিম সেশনে গা ঘামাতে দেখা গেছে মেসি-আলভারেজদের। শারীরিক সুস্থতা বজায় রেখে সেমিফাইনালে পূর্ণ শক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়াই এখন আর্জেন্টিনার মূল লক্ষ্য।

স্কালোনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “শরীরের শেষ বিন্দু দিয়ে লড়ব। ফলাফল যা-ই হোক, লড়াইয়ে কোনো খামতি থাকবে না।” বিশ্বমঞ্চে টানা দ্বিতীয় ফাইনালে ওঠার অপেক্ষায় এখন নীল-সাদা জার্সিধারীরা।