বিসিএএস-এর কড়াকড়ি! আধার কার্ডে প্রবেশ বন্ধের জেরে কলকাতা বিমানবন্দরের মসজিদে তালা

কলকাতা বিমানবন্দরের কারিগরি সীমানার মধ্যে অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক বাঁকাড়া মসজিদ, যা গৌরীপুর জামা মসজিদ নামেও পরিচিত, সেখানে প্রবেশ এখন অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত রবিবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, নিরাপত্তার খাতিরে শুধুমাত্র আধার কার্ড দেখিয়ে এই সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া আর সম্ভব নয়। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।

প্রাথমিকভাবে শনিবারে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছিল, বৃষ্টির কারণে মসজিদগামী রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেরামতির জন্য দুই দিনের জন্য যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সোমবার থেকে নামাজ পড়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রবিবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানিয়েছেন, মেরামতির কাজ শেষ হলেও ব্যুরো অফ সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি (বিসিএএস)-এর বিশেষ নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে আপাতত মসজিদে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, শুক্রবার পর্যন্ত সিআইএসএফ জওয়ানদের কাছে আধার কার্ড জমা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭০ জন মুসল্লি বিভিন্ন সময়ে মসজিদে নামাজ পড়ার সুযোগ পেতেন। কিন্তু রবিবার থেকে গেট নম্বর ৮-এ মোতায়েন জওয়ানরা মুসল্লিদের জানিয়ে দেন যে, এএআই (AAI)-এর কাছ থেকে মসজিদ খোলার কোনো নতুন নির্দেশ তাঁদের কাছে পৌঁছায়নি। ফলে বহু মানুষ মসজিদে যাওয়ার পথে বাধা পেয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হন।

মুসল্লি আবুল কালামের মতো স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অতীতেও বিমানবন্দরের রানওয়ে মেরামতির কাজ হয়েছে, কিন্তু কখনও নামাজ বন্ধ করা হয়নি। এই অনিশ্চয়তার কারণে মুসল্লিরা ক্ষুব্ধ। জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি ও প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী এই বিষয়ে বিমানবন্দর পরিচালকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, ঠিক কতদিন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।

বিসিএএস-এর তরফ থেকে বিমানবন্দরের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে শুধুমাত্র আধার কার্ডের ওপর ভিত্তি করে এই প্রবেশের ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এখন পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে যে, নতুন কোনো কড়া পাস ব্যবস্থা চালু করা হবে, নাকি স্থায়ীভাবে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার রুদ্ধ করে দেওয়া হবে।

এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদারের দাবি, বিমানবন্দরের সেকেন্ডারি রানওয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় এই মসজিদটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বিকল্প স্থানের প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও মসজিদ কমিটি সরে আসতে নারাজ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের মতে, তোষণ রাজনীতির কারণে বিগত দিনে কোনো সরকার এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সাহস পায়নি। তবে বর্তমান সরকার জননিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস করবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন। বর্তমানে মসজিদ কমিটির সঙ্গে কর্তৃপক্ষের কোনো বোঝাপড়া হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।