১৫০০ কোটির মেগা ডিল! পোলারিস স্মার্ট মিটারিং কিনতে ঝাঁপিয়ে পড়ল আদানি-সহ তাবড় কোম্পানি

ভারতের স্মার্ট মিটারিং বাজারে শীঘ্রই ঘটতে চলেছে এক বিশাল আর্থিক লেনদেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, পোলারিস স্মার্ট মিটারিং-এর মূল সংস্থা ‘আই স্কোয়ার্ড ক্যাপিটাল’ তাদের এই লাভজনক ব্যবসা থেকে বেরিয়ে আসার তোড়জোড় শুরু করেছে। এই বিক্রয় প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং বাজারে থাকা চার-পাঁচটি প্রথম সারির সংস্থার সঙ্গে আলোচনাও অনেকটা এগিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই দৌড়ে সবথেকে এগিয়ে রয়েছে আদানি এনার্জি সলিউশনস, অপ্রাভা এনার্জি এবং অ্যাক্টিস-এর মতো সংস্থাগুলো। এই সংস্থাগুলো বর্তমানে ‘ডিউ ডিলিজেন্স’ বা আর্থিক চুলচেরা বিশ্লেষণের কাজ চালাচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের অনুমান, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী আগস্ট মাসের শুরুতেই চূড়ান্ত দরপত্র জমা দেওয়া হবে। এই পুরো চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা বা ১৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আই স্কোয়ার্ড ক্যাপিটাল প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে পোলারিস স্মার্ট মিটারিং-এর নিয়ন্ত্রণকারী অংশীদারিত্ব অর্জন করেছিল। কোম্পানির বাকি অংশীদারিত্বের মালিক ‘সামুন্নতি সিঙ্গাপুর’, যা যশরাজ খৈতানের নিয়ন্ত্রণাধীন। পোলারিস মূলত আবাসিক এবং শিল্পক্ষেত্রের জন্য স্মার্ট মিটার তৈরির কাজ করে। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে এই সংস্থার বড় ধরনের কাজের চুক্তি রয়েছে। লখনউ ও অযোধ্যা ক্লাস্টারে ৫.১ মিলিয়ন এবং পশ্চিমবঙ্গের ২.২ মিলিয়ন স্মার্ট মিটার স্থাপনের কাজ পোলারিসের ঝুলিতেই রয়েছে।

স্মার্ট মিটার হলো বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড। এটি একটি ডিজিটাল ডিভাইস যা গ্রাহকের বিদ্যুৎ বা গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড করে সরাসরি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার কাছে পাঠায়। ফলে গ্রাহকরা রিয়েল-টাইমে নিজেদের ব্যবহারের হিসাব রাখতে পারেন এবং ভুল বিলিং বা আনুমানিক বিলের হয়রানি থেকে মুক্তি পান।

ভারত সরকারের ‘সংশোধিত বিতরণ খাত প্রকল্প’-এর আওতায় ২০২৭ সালের মধ্যে সারা দেশে ২৫ কোটি প্রিপেইড স্মার্ট মিটার বসানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় হওয়া বিপুল লোকসান কমাতেই এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। এই প্রকল্পে প্রায় ১.৩৫ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যার ফলে স্মার্ট মিটারিং খাতে ভবিষ্যতে বিশাল কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে পোলারিসের হাতবদল এই খাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে একটি বড় মোড় হতে পারে।