‘না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা’ আসলে ভাঁওতা! মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ জয়রাম রমেশের

সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ফের সুর চড়ালেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ। সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, মোদী সরকারের আসল নীতি এখন ‘ন্যূনতম শাসন, সর্বাধিক ধামাচাপা’।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’-এ একটি দীর্ঘ পোস্টে রমেশ ২০১৪ সালের মোদীর সেই বিখ্যাত স্লোগান—”না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা”-কে চরম ‘ভাঁওতা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর কথায়, “২০১৪ সালের মে মাসে নরেন্দ্র মোদী এই স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, কিন্তু পরবর্তী ১০ বছরের ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে দিয়েছে যে তিনি আসলে ‘খাউঙ্গা, খানে দুঙ্গা, অউর খিলাউঙ্গা’ (আমিও খাব, অন্যকেও খেতে দেব এবং অন্যদের লাভ করতে সাহায্য করব) নীতিতে বিশ্বাসী।”

অভিযোগের লম্বা তালিকা
রমেশ তাঁর অভিযোগে নোটবন্দি, ইলেক্টোরাল বন্ড, রাফাল চুক্তি, পিএম কেয়ার্স ফান্ড এবং ‘মোদানি সাম্রাজ্যের’ অস্বাভাবিক বিস্তারের মতো একাধিক সংবেদনশীল প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তিনি বলেন, “ডঃ মনমোহন সিং নোটবন্দিকে ‘সংগঠিত লুট’ বলেছিলেন, যা আজ প্রমাণিত। ইলেক্টোরাল বন্ড আসলে ৪ লক্ষ কোটি টাকার এক বিশাল ‘চান্দা দো, ধান্দা লো’ কেলেঙ্কারি। ‘হাম আদানি কে হ্যায় কৌন’ সিরিজে আমরা যে ১০০টি প্রশ্ন করেছিলাম, তার কোনো উত্তর প্রধানমন্ত্রীর থেকে মেলেনি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্যাগ (CAG)-কে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে যাতে আয়ুষ্মান ভারত বা পিএম কৌশল বিকাশ যোজনার মতো প্রকল্পের দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়া যায়।

সাম্প্রতিক বিতর্কে তোলপাড়
রমেশ সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ইস্যু সামনে এনে সরকারের নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন:
১. অযোধ্যা রাম মন্দির: মন্দির নির্মাণের অনুদান নিয়ে ‘চান্দা চোরি’র অভিযোগ দেশের বিবেককে নাড়া দিয়েছে।
২. অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী: পেমা খান্ডুর পরিবারের সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
৩. মধ্যপ্রদেশের জমি বিতর্ক: মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ।
৪. পরীক্ষা ব্যবস্থা: নিট (NEET) সহ অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নিয়ে ওঠা জালিয়াতির ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রমেশ। তাঁর মতে, তিনি দেশের লক্ষ লক্ষ যুবকের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

এছাড়াও তিনি E20 জ্বালানি নীতিতে সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর পরিবারের সুবিধা পাওয়া এবং দিল্লির প্রশাসনিক কাজে পরিবারের সদস্যদের নাক গলানোর মতো বিষয়গুলোও তুলে ধরেন। কংগ্রেসের এই একের পর এক আক্রমণে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। বিরোধীদের দাবি, সরকারের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি গেড়ে বসেছে এবং প্রধানমন্ত্রীকে জবাব দিতেই হবে।