বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন! মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ কি এবার আপনার পকেটেও টান দেবে?

পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সামরিক উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে এক গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলা সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৭৯ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে। আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের এই অস্থিরতার মূল কারণ হলো হরমুজ প্রণালী। এই জলপথটি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত। ইরান ও আমেরিকার সামরিক শক্তির এই দ্বৈরথে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দামে এই বড় লাফ দেখা দিয়েছে।
ভারত সরকার বর্তমানে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। যদিও ভারতে জ্বালানির খুচরো বাজার আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে, তবে বিশ্ববাজারে তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে তার সরাসরি প্রভাব ভারতীয় অর্থনীতিতে পড়বে। ভারতের আমদানি খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাবে, যা জ্বালানি তেল বিপণন সংস্থাগুলোর ওপর প্রবল চাপের সৃষ্টি করবে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের এই উত্তাপ যদি না কমে, তবে আগামী দিনে দেশের খুচরো বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে ইউরোপের প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সেখানে গ্যাসের দাম প্রায় ২.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এর আগে পারস্য উপসাগরের দেশগুলো, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী তেল রপ্তানি বাড়িয়ে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল, কিন্তু নতুন এই সংঘাত সেই সমস্ত চেষ্টাকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের চেইন ভেঙে পড়ার ভয় দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন প্রধান শহরে জ্বালানির দর নিম্নরূপ:
নয়াদিল্লি: পেট্রল ১০২.১২ টাকা, ডিজেল ৯৫.২০ টাকা প্রতি লিটার।
কলকাতা: পেট্রল ১১৩.৫১ টাকা, ডিজেল ৯৯.৮২ টাকা প্রতি লিটার।
মুম্বই: পেট্রল ১১১.২১ টাকা, ডিজেল ৯৭.৮৩ টাকা প্রতি লিটার।
চেন্নাই: পেট্রল ১০৯.৪৫ টাকা, ডিজেল ১০১.২৬ টাকা প্রতি লিটার।
বেঙ্গালুরু: পেট্রল ১১১.২৫ টাকা, ডিজেল ৯৯.১৪ টাকা প্রতি লিটার।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যদিও এটি এখনও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নেয়নি, তবুও এই সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, তেলের দাম তত বাড়বে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক নতুন সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যার আঁচ থেকে সাধারণ মানুষের পকেট বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।