“লটারির টাকা আত্মসাৎ ও হিংসায় উস্কানি”-গ্রেফতার প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর

দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে গ্রেফতার পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ। সোমবার ভোরে দক্ষিণেশ্বরের একটি হোটেল থেকে খড়দা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট-পরবর্তী হিংসায় উস্কানি দেওয়া এবং এক লটারিজয়ীর কাছ থেকে বন্দুক দেখিয়ে কোটি টাকা ছিনতাইয়ের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেফতারির প্রেক্ষাপট: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তীর্থঙ্কর ঘোষ। তবে বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের কাছে তিনি পরাজিত হন। নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আবহে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে থাকা পুরনো মামলাগুলোর তদন্তে গতি বাড়িয়েছে পুলিশ। বেশ কিছুদিন ধরেই তীর্থঙ্কর গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন বলে খবর। অবশেষে রবিবার গভীর রাতে পুলিশের একটি বিশেষ দল দক্ষিণেশ্বরে হানা দিয়ে তাঁকে পাকড়াও করে।
কী অভিযোগ তীর্থঙ্করের বিরুদ্ধে? পুলিশ ও মামলাকারী সূত্রে জানা গিয়েছে:
লটারি ছিনতাই: তীর্থঙ্করের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বন্দুক দেখিয়ে নিজের ড্রাইভারের জেতা লটারির টাকা (কোটি টাকা) জোর করে ছিনিয়ে নিয়েছেন।
ভোট-পরবর্তী হিংসা: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এলাকায় যে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছিল, তাতে তীর্থঙ্করের প্ররোচনা ছিল বলে অভিযোগ।
খড়দা থানায় তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানতে চাইছে, এই বিশাল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের পেছনে আর কে কে জড়িত এবং কত জনের মধ্যে এই টাকা ভাগবাঁটোয়ারা হয়েছিল। আজ তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হবে এবং তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ তাঁর ১০ দিনের হেফাজত চাইতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
নির্মল ঘোষ ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: অন্যদিকে, তীর্থঙ্করের বাবা তথা পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকেও দীর্ঘ সময় ধরে খুঁজছে পুলিশ। সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক বৈঠকে হঠাৎ তাঁকে দেখা যাওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। যদিও ওই সভার আয়োজক গোষ্ঠী দাবি করেছে, নির্মল ঘোষ সেখানে অনাহুত ছিলেন। বাবার মতো ছেলের এই গ্রেফতারি যে পানিহাটির তৃণমূল শিবিরে বড়সড় চাপ তৈরি করল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।