গণপিটুনিতে মৃত্যুর দায় কি লাহেকের? বারুইপুর অশান্তিতে বাম নেতার গ্রেফতারিতে শোরগোল

নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর বারুইপুরে গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক যুবকের। সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এবার উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন সিপিআইএম নেতা লাহেক আলি। রবিবার রাতে নিজ বাসভবন থেকেই তাঁকে পুলিশ গ্রেফতার করে। উল্লেখ্য, বিগত বিধানসভা নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রে তিনি বামফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন।
গ্রেফতারির প্রেক্ষাপট গত ৫ জুলাই বারুইপুরের সূর্যপুরে এক নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিক্ষোভের নামে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর এবং পথ ও রেল অবরোধের মতো ঘটনা ঘটে। সেই উত্তাল পরিস্থিতিতেই ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে প্রমাণিত হয়, ওই নাবালিকার মৃত্যু বা নির্যাতনের সঙ্গে ইন্দ্রজিতের কোনো সম্পর্কই ছিল না।
রাজনৈতিক চাপানউতোর এই ঘটনার পর শনিবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরে গিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ নির্দোষ। যারা নির্বাচনে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তারাই এর পেছনে উস্কানি দিচ্ছে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সিপিআইএম নেতা লাহেক আলির গ্রেফতারি রাজনৈতিক মহলে বড়সড় আলোড়ন ফেলেছে। বিজেপির অভিযোগ ছিল, অশান্তিতে সরাসরি ইন্ধন জুগিয়েছেন লাহেক আলি ও তাঁর দলবল।
পুলিশের দায়ের করা ধারাসমূহ লাহেক আলির বিরুদ্ধে পুলিশ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
খুন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (Criminal Conspiracy)।
দাঙ্গা ও সরকারি কর্মীদের ওপর হামলা।
জনসম্পত্তি নষ্ট ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো।
এছাড়া রেলওয়ে আইনের বিভিন্ন ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বাম শিবিরের প্রতিক্রিয়া এই গ্রেফতারির তীব্র নিন্দা করেছেন সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লাহেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। ইন্দ্রজিৎ নিহত হওয়ার পরই লাহেক ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন, তিনি কোনো উস্কানি দেননি।”
সোমবার লাহেক আলিকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এবং গণপিটুনির মতো জঘন্য ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসন যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, এই গ্রেফতারি তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।