সরকারি কর্মীদের মুখে হাসি! সপ্তম পে কমিশনের দৌলতে কি ৯২,০০০ টাকা হবে ন্যূনতম বেতন?

রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য একগুচ্ছ সুখবর নিয়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকার গঠনের মাত্র দেড় সপ্তাহের মধ্যে সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে বিজেপির দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে তিনি এক বড় পদক্ষেপ নিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে সরকারি কর্মীদের মধ্যে উৎসাহের অন্ত নেই। নতুন পে কমিশন কার্যকর হলে কর্মীদের বেতন কাঠামোয় এক আমূল পরিবর্তন আসবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে সপ্তম পে কমিশন গঠিত হয়ে যাবে। কমিশন গঠিত হওয়ার পরপরই শুরু হবে সুপারিশ তৈরির প্রক্রিয়া। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে রাজ্য সরকার। এর পাশাপাশি, ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে সরকারের ইতিবাচক অবস্থান কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। সূত্রের খবর, চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকেই বর্ধিত হারে ডিএ মিলতে পারে।

সপ্তম পে কমিশনের সবথেকে আকর্ষণীয় দিক হলো বেতনের বিপুল বৃদ্ধি। সূত্রের খবর অনুযায়ী, নতুন কমিশন কার্যকর হলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেসিক বেতন ষষ্ঠ পে কমিশনের তুলনায় দুই থেকে আড়াই গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। যদি ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৫ ধার্য করা হয়, তবে স্তরের ওপর ভিত্তি করে কর্মীদের বেসিক বেতন একলাফে বহুগুণ বেড়ে যাবে। হিসেব অনুযায়ী, লেভেল ১ থেকে ৫-এর কর্মীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বেসিক বেতন ১৮,০০০ থেকে বেড়ে প্রায় ৯২,৩০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

বেতন কাঠামো পরিবর্তনের এই ঢেউয়ে অন্যান্য স্তরের কর্মীদের বেতনও যে অনেকটা বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। লেভেল ৬ থেকে ৯-এর অর্থাৎ জুনিয়র আধিকারিক, ইনস্পেক্টর ও সুপারভাইজার পদের কর্মচারীদের বেসিক বেতন ৩৫,৪০০ থেকে বেড়ে ১,৬৭,৮০০ টাকার গণ্ডিতে পৌঁছাতে পারে। সবথেকে বড় লাফ দেখা যেতে পারে প্রশাসনিক স্তরে। লেভেল ১৩ থেকে ১৮-র প্রশাসনিক আধিকারিকদের বেসিক বেতন ১ লক্ষ ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

যদিও কমিশন গঠনের পথ পরিষ্কার, তবুও চূড়ান্ত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে এখনও সরকারিভাবে কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। সরকারি কর্মীদের চোখ এখন সেই বিজ্ঞপ্তির দিকেই। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে বাংলার লক্ষ লক্ষ কর্মীর আর্থিক অবস্থার দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির স্বপ্ন দেখছেন। প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কমিশন গঠনের পর আসল চিত্রটা আরও স্পষ্ট হবে। আপাতত, বড় ঘোষণার অপেক্ষায় দিন গুনছেন সরকারি কর্মচারীরা।