“সিন্ডিকেট থেকে তোলাবাজ”—সবই এবার অপরাধ! জেনে নিন গুন্ডাদমন আইনের ১০টি কঠিন শর্ত

রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার মান উন্নয়নে এবং সমাজবিরোধীদের মোকাবিলায় এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সোমবার থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো বহু প্রতীক্ষিত ‘গুন্ডাদমন আইন’, যার পোশাকি নাম— ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাক্ট, ২০২৬’। গত শুক্রবার বারুইপুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই আইন বলবৎ করার ঘোষণা করেছিলেন।
কী কী ক্ষমতা পেল পুলিশ ও প্রশাসন? এই আইনের মাধ্যমে প্রশাসনকে এমন কিছু বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা অপরাধীদের দমনে অত্যন্ত কার্যকর হবে। নবান্ন সূত্রে প্রাপ্ত মূল ক্ষমতাগুলো হলো:
বিনা বিচারে আটক: জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক মনে হলে বা অপরাধের চক্রান্তের সন্দেহ থাকলে, অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত বিনা বিচারে ‘প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন’-এ আটক রাখা যাবে।
এলাকাছাড়া করার ক্ষমতা: জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার বা ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিকরা চাইলে দাগী অপরাধীদের এক বছরের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা বা পুরো জেলা থেকে বহিষ্কার (Internment) করতে পারবেন।
সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত: সিন্ডিকেট বা তোলাবাজির মতো সংগঠিত অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি সরাসরি বাজেয়াপ্ত করার আইনি অধিকার দেওয়া হয়েছে।
ক্লেম কমিশন: আন্দোলন বা বিক্ষোভের নামে সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করলে, তা আদায়ের জন্য গঠিত হবে বিশেষ ‘ক্লেম কমিশন’। অভিযুক্তদের কাছ থেকেই ক্ষতির সমপরিমাণ অর্থ উশুল করবে এই কমিশন।
জামিন অযোগ্য মামলা: সমাজবিরোধী কার্যকলাপের অনেক ক্ষেত্রে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হবে।
স্বচ্ছতা: আইনের অপব্যবহার রুখতে এবং নজরদারির জন্য একটি ‘অ্যাডভাইসরি বোর্ড’ বা উপদেষ্টামণ্ডলী গঠন করা হয়েছে।
‘গুন্ডা’ বা সমাজবিরোধী বলতে কাদের বোঝানো হচ্ছে? নতুন এই আইনের পরিধি বেশ বিস্তৃত। সিন্ডিকেটরাজ, তোলাবাজি, জবরদখল (জমি বা বাড়ি), বেআইনি বালি খনন ও খনি কারবারকে সরাসরি সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, সাইবার অপরাধ, বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতি এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটানোও এই আইনের আওতায় পড়বে।
এছাড়াও, সরকারি ভবনে ভাঙচুর, ট্রেন-বাস পোড়ানো কিংবা পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা রুখতে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’-এর কঠোর প্রয়োগ শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, এই আইন সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জন্য। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই আইন কোনো সাধারণ নাগরিক বা ভদ্রলোকদের জন্য নয়, বরং যারা আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত করে, তাদের জন্যই এই ‘যম’। নবান্নের এই কড়া পদক্ষেপ আগামী দিনে রাজ্যের অপরাধ দমনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।