নড়বড়ে জমিতে ৬০,০০০ মেগাওয়াটের দানবীয় বাঁধ! ভেঙে পড়লে কি হবে? মুখ খুললেন খোদ বিজ্ঞানীরাই

চিনের তৈরি বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ‘মেদোগ বাঁধ’ নিয়ে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অরুণাচল সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইয়ারলুং সাংপো নদীর ওপর নির্মিত এই বিশাল বাঁধটি আসলে একটি ‘ভূতাত্ত্বিক টাইম বোমার’ ওপর দাঁড়িয়ে আছে বলে সতর্ক করেছেন খোদ চিনা সরকারি ভূতত্ত্ববিদরাই।
কেন এই উদ্বেগ? চিনের রাষ্ট্রীয় ভূতাত্ত্বিক সংস্থার গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রকল্পটি একটি সক্রিয় ‘ফল্ট লাইন’ বা ফাটল রেখার ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে। ‘পাইঝেন ফল্ট’ নামে পরিচিত এই ফাটলটি গত হাজার হাজার বছর ধরে সক্রিয় এবং এটি ভূমিকম্পের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চেংডু ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির গবেষকদের দাবি, এই নড়বড়ে মাটির কাঠামো ৬০,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিশাল এই বাঁধ ও তার জলাধারের ভার বহনে সক্ষম নয়।
বিপজ্জনক তথ্য:
অস্থির ভূ-প্রকৃতি: পাইঝেন ফল্টটি প্লিস্টোসিন যুগ থেকেই সক্রিয়। ২০১৭ সালে এই অঞ্চলের কাছাকাছি ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প এর সক্রিয়তাকে প্রমাণ করে।
ভূমিধসের আশঙ্কা: জলাধারটি জলে পূর্ণ হলে জল চুইয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে, যা ক্রমাগত মাটি আলগা করে বড় ধরনের ভূমিধস বা শিলাধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
দুর্বল ভিত্তি: গবেষকদের মতে, বারবার ফল্টটি নড়াচড়া করায় পার্শ্ববর্তী শিলাস্তর ইতিমধ্যেই দুর্বল হয়ে ফাটল ধরেছে।
ভারত ও বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি: এই বাঁধটি মূলত তিব্বতের মেদোগ কাউন্টিতে নির্মিত, যা ভারতে ব্রহ্মপুত্র হিসেবে পরিচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাঁধটি জল আটকে দেবে কি না তার চেয়েও বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাঁধটি ভেঙে গেলে বিশাল জলরাশি মুহূর্তের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় ধেয়ে আসবে, যা ভারত ও বাংলাদেশের নিচের দিকের অঞ্চলগুলোর জন্য প্রলয়ঙ্করী হতে পারে। তবে জল বিশেষজ্ঞ নীলাঞ্জন ঘোষের মতে, ব্রহ্মপুত্রের মোট জলের মাত্র ১০-১৫ শতাংশ আসে ইয়ারলুং সাংপো থেকে, তাই চিন চাইলেও জল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারবে না।
প্রকল্পের বিশালতা:
ক্ষমতা: ৬০,০০০ মেগাওয়াট।
ব্যয়: ১৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
লক্ষ্যমাত্রা: ২০৩৩ সালের মধ্যে পুরো প্রকল্প চালু করা।
চিনের নিজস্ব সরকারি বিজ্ঞানীদের এই সতর্কতা এখন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পরিবেশবিদ ও ভূ-রাজনীতিবিদদের মতে, উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের নেশায় চিন যে ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকির দিকে নজর দিচ্ছে না, তা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।