‘কালনেমীদের দম্ভ চূর্ণ করবে রামভক্তি!’ অযোধ্যা ইস্যুতে বিরোধীদের তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ

উত্তরপ্রদেশের রামপুরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সূচনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রাম মন্দিরের অনুদান চুরি বা সাম্প্রতিক বিতর্কিত ঘটনার নাম না করেই তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, বিরোধীরা অযোধ্যা ও কাশীর উন্নয়ন সহ্য করতে না পেরে মিথ্যার জাল বুনছে।

‘বিরোধীদের গাত্রদাহের কারণ উন্নয়ন’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওদের মূল সমস্যা হলো অযোধ্যা নগরী এত সুন্দর কেন হলো, কাশীর বিশ্বনাথ ধাম কেন এত আকর্ষণীয় হয়ে উঠল। উন্নয়ন দেখে যাদের গাত্রদাহ হয়, তারা এখন নিরুপায় হয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে।” তিনি বিরোধীদের এই মনোভাবকে ‘আঙ্গুর ফল টক’ (অঙ্গুর খট্টি হ্যায়)-এর গল্পের সঙ্গে তুলনা করেন।

‘কালনেমী’দের হুঁশিয়ারি রামায়ণের প্রসঙ্গ টেনে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “শ্রীরামের ভক্ত হনুমানজি যখন লক্ষ্মণের প্রাণ বাঁচাতে সঞ্জীবনী বুটি আনতে যাচ্ছিলেন, তখন কালনেমীরা তাঁকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু রামভক্তি সেই কালনেমীদের দম্ভ চূর্ণ করার শক্তি রাখে। বর্তমান সময়েও যারা অযোধ্যা ও রামমন্দির নিয়ে মিথ্যা ছড়াচ্ছে, তারা সেই কালনেমীদের মতোই।”

কংগ্রেসের ভোলবদল নিয়ে কটাক্ষ যোগী আদিত্যনাথ কংগ্রেসকে নিশানা করে বলেন, “২০১৭ সালের আগে এই দলটি রাম ও কৃষ্ণের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করেছিল। আর আজ তারাই অযোধ্যায় যাওয়ার জন্য উদগ্রীব। প্রভু রাম সবার, কিন্তু তিনি ভালোভাবেই জানেন কে সঠিক আর কে ভুল।”

উন্নয়নের পথেই সরকার তিনি আরও বলেন, অযোধ্যা, কাশী, প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ, মথুরা-বৃন্দাবনের উন্নয়ন—এসব কিছুই বিরোধীদের চক্ষুশূল। সরকারের প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজকে বাধা দেওয়ার জন্য তারা প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু জনতা জনার্দন তাদের স্বরূপ চিনে ফেলেছে এবং অতীতে তাদের উপযুক্ত জবাবও দিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তা থেকে স্পষ্ট যে, আসন্ন নির্বাচন ও সাম্প্রতিক বিতর্কগুলোকে মাথায় রেখে শাসকদল বিরোধীদের মিথ্যার মোকাবিলায় ধর্মীয় ও উন্নয়নমূলক এজেন্ডাকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চলেছে।