বিধানসভায় আজ ‘ইউসিসি’ ধামাকা? বিল পেশ নিয়ে চরম জল্পনা, উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি

সোমবার রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বের শেষ দিনে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। আজ বিধানসভায় ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ (Uniform Civil Code – UCC) বিল পেশ করা হবে কি না, তা নিয়ে সকাল থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বিধানসভার অন্দরে ও বাইরে তুমুল লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে।

বিল পেশ নিয়ে ধোঁয়াশা: সোমবার সকাল পর্যন্ত সরকারের তরফে বিলটি পেশের প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, বিরোধী বিধায়কদের অভিযোগ, তাঁরা এখনও বিলের খসড়া কপি হাতে পাননি। বিরোধী শিবিরের একাংশের মতে, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়ে বিল পেশ করলে তা নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়বে। তবে সরকারি সূত্রের খবর, বিধানসভার কার্যবিবরণীর দ্বিতীয় ভাগে বিলটি পেশ ও আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তৃণমূলের অন্দরে স্নায়ুযুদ্ধ: ইউসিসি বিল পেশকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরেও শুরু হয়েছে প্রবল ক্ষমতার লড়াই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই ভিন্ন গোষ্ঠী নিজেদের অস্তিত্ব ও দাপট প্রমাণ করতে মরিয়া। সূত্রের খবর, মমতাপন্থী বিধায়কদের বিলের বিরোধিতায় সরব হওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবিরের বিধায়করাও এই সুযোগে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে তৎপর। ফলে বিধানসভার ফ্লোরে সরকার বনাম বিরোধী দলের লড়াইয়ের পাশাপাশি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

ইউসিসি-র লক্ষ্য ও প্রভাব: রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউসিসি কার্যকর হলে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও দত্তক গ্রহণের মতো ব্যক্তিগত দেওয়ানি বিষয়গুলোতে সব ধর্মের মানুষের জন্য একই আইন প্রযোজ্য হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে কঠোর আইন ও ইউসিসি কার্যকর করা তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার।

রাজনৈতিক সমীকরণ: দেশের চতুর্থ রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি চালুর তোড়জোড় শুরু হওয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও আদিবাসী সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও পার্সোনাল ল’ বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী নেতা-নেত্রীরা।

আজকের অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে বিলটি পেশ করেন কি না এবং বিরোধী দলগুলি কীভাবে এই বিলের মোকাবিলা করে, সেটাই এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয়। বিধানসভার গেট থেকে অন্দরের লবি পর্যন্ত আজ সারাদিনই চরম উত্তেজনা বজায় থাকার সম্ভাবনা।