স্কুলে যাওয়ার নাম করে মাইথনে যাত্রা! বন্ধুদের চোখের সামনেই তলিয়ে গেল দশম শ্রেণির ছাত্র

স্কুলে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরোলেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আর ঘরে ফেরা হলো না আসানসোলের ডিএভি পাবলিক স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র প্রিন্স কুমারের (১৫)। বুধবার স্কুলে না গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মাইথন জলাধারে বেড়াতে গিয়ে স্নান করতে নেমে তলিয়ে মৃত্যু হয়েছে এই কিশোরের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু আসানসোল নয়, গোটা মাইথন এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালের দিকে প্রিন্স তার কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে একটি অটো ভাড়া করে আসানসোল থেকে মাইথনে পৌঁছায়। তারা মাইথন ফায়ারিং রেঞ্জ ও আনন্দ দীপের মাঝামাঝি একটি ঘাটে গিয়ে জলাধারের জলে স্নান করতে নামে। কিন্তু স্নান করার সময় অসাবধানতাবশত গভীর জলে তলিয়ে যেতে শুরু করে প্রিন্স। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাকে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও তা ব্যর্থ হয় এবং চোখের পলকেই জলের গভীরে তলিয়ে যায় প্রিন্স।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, প্রিন্সের তলিয়ে যাওয়ার খবর জানার পর তার বন্ধুরা ঘটনার ভয়াবহতায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। কোনো প্রাপ্তবয়স্ককে বা পুলিশকে খবর না দিয়েই তারা দ্রুত আসানসোলে ফিরে আসে। শুধু তাই নয়, প্রিন্সের ব্যবহৃত স্কুলব্যাগ ও ইউনিফর্ম তারা পথের ধারের একটি জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসে যাতে কেউ সন্দেহ না করে। ওদিকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রিন্স বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায়, ওই দিন প্রিন্স স্কুলেই আসেনি। অবশেষে আসানসোল উত্তর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।

পুলিশ নিখোঁজ ডায়েরির তদন্ত শুরু করতেই প্রিন্সের বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। জেরার মুখে তারা মাইথনে যাওয়ার কথা স্বীকার করে এবং পুরো ঘটনাটি পুলিশের কাছে খুলে বলে। এরপর আসানসোল উত্তর থানা, সালানপুর থানা ও কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়ির যৌথ উদ্যোগে পুলিশ ছাত্রদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তল্লাশি চালানোর সময় জঙ্গল থেকে প্রিন্সের পরিত্যক্ত স্কুলব্যাগ ও ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় স্থানীয় নৌকাচালকদের সহযোগিতায় মাইথন জলাধার থেকে প্রিন্সের দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। বন্ধুদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। প্রশ্ন উঠছে, কেন বন্ধুরা সময়মতো পুলিশকে খবর দিল না বা পরিবারের কাউকে জানাল না? বন্ধুদের কি কোনো ভয়ের কারণ ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে? পুলিশ এখন ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে। একটি পরিবারের স্বপ্ন এভাবে মুহূর্তের ভুলে বা অবহেলার কারণে ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়ায় এলাকায় নেমে এসেছে চরম বিষাদ।