‘মোদীজি, যুবসমাজের কাছে ক্ষমা চান!’-আন্দোলনকারীকে পাশে বসিয়ে চরম হুঙ্কার রাহুলের

দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছাড়াও পেলেট গান ব্যবহার করেছে— শুরু থেকেই এমন গুরুতর অভিযোগ তুলে আসছিলেন আন্দোলনকারীরা। আর এবার শুক্রবার দিল্লিতে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে সেই অভিযোগে আরও বেশি শাণ দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। পেলেট গান ব্যবহারের জেরে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এক আন্দোলনকারী ছাত্রকে সরাসরি সামনে এনে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে চরম বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুললেন তিনি। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর এ ধরনের দমনপীড়ন কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন কংগ্রেস নেতা।

২০২৫ সালের এসএসসি প্রশ্নফাঁস ও সাহিলের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা

গত সোমবার, ২০ জুলাই দিল্লির ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন সাহিল নামের এক কলেজছাত্র। নিজেও ২০২৫ সালের এসএসসি (SSC) দিল্লি কনস্টেবল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনার শিকার হয়েছিলেন তিনি। এ দিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাহিল আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এসএসসি কর্তৃপক্ষ আবারও সেই একই সংস্থাকে পরীক্ষার দায়িত্ব দিতে চলেছে, যার জেরে ভবিষ্যতে ফের প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়ে গিয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করতে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিল দিল্লি পুলিশ। তবে দিল্লির সফফদরজং হাসপাতাল সূত্রে একটি সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, গত ২০ জুলাই এক আহত আন্দোলনকারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং তাঁর শরীরে পেলেট গানের ফলের জেরে তৈরি হওয়া ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট ছিল।

‘চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে’

এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে সেই একই প্রসঙ্গ তুলে ধরে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, ‘ন্যায্য বিচার ও উন্নত ভবিষ্যতের দাবিতে সাহিল এই প্রতিবাদে শামিল হয়েছিল। কিন্তু আজ পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাঁর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।’

আহত ছাত্র সাহিল জানান, পুলিশের আক্রমণে তাঁর ডান চোখে মারাত্মক জখম হয়েছে। চোখে পেলেটের মতো একাধিক ধাতব কণা ঢুকে যাওয়ায় তাঁর জটিল অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। বর্তমানে তাঁর দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সাহিলের শরীরে পেলেট গানের ক্ষতের দাগ ও ব্যান্ডেজ দেখিয়ে রাহুল গান্ধী সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন—

“মোদীজি, আপনার এই পাপের জন্য দেশের তরুণদের কাছে ক্ষমা চান। এর জন্য যে সমস্ত ব্যক্তিরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন এবং অবিলম্বে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করুন।”

রাহুলের ৩টি প্রধান দাবি

এদিনের এই বিশেষ সাংবাদিক বৈঠক থেকে মূলত তিনটি জোরালো দাবি উত্থাপন করেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী: ১. পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত মূল অভিযুক্তদের অবিলম্বে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। ২. শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ছাত্রছাত্রীদের ওপর পেলেট গান চালানো এবং নির্বিচারে লাঠিচার্জের ঘটনার নেপথ্যে থাকা দোষী অফিসার ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। ৩. বিক্ষোভকারীদের মূল এবং প্রধান দাবি— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদচ্যুত করতে হবে। দেশজুড়ে লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার পরও সরকার কেন এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন রাহুল গান্ধী।