‘সত্যের চেয়ে প্রাণ নেওয়া সহজ’! পুনের ব্যবসায়ী খুনে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া, ঘটনার ভয়াবহতায় মুখ খুললেন অভিনেত্রী হিনা খান

বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল আর কয়েক মাস পরেই। ছিল বালি ভ্রমণের পরিকল্পনা ও প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের তোড়জোড়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে প্রাণ গেল পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের। শিলং মার্ডার কেস কিংবা ব্লু ড্রাম মার্ডার কেসের মতো একের পর এক শিউরে ওঠা হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই, কেতন আগরওয়ালের এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সোশাল মিডিয়ায় এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিনা খান।
ঘটনাটি ঠিক কী? ১৮ জুন পুনের লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিং করতে গিয়েছিলেন কেতন আগরওয়াল ও তাঁর বাগদত্তা সিয়া গোয়েল। সিয়ার জন্মদিন পালনের জন্য এই সফরের পরিকল্পনা করেছিলেন কেতন। কেতনের পরিবার বা কাছের মানুষরা শুরুতে ভেবেছিলেন, লোহাগড় দুর্গের খাড়াই থেকে দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়ে কেতনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তদন্তের গভীরে যেতেই পুলিশের হাতে উঠে আসে এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের তথ্য। জানা যায়, এটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না, বরং ছিল ঠান্ডা মাথায় সাজানো এক হত্যাকাণ্ড।
পুলিশি তদন্তে প্রকাশ, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন কেতনেরই বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তাঁর কথিত প্রেমিক চেতন চৌধুরী। সিয়া কেবল ১৮ জুনের ওই দিনটিই নয়, এর আগেও ১৪ জুন কেতনকে হত্যার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। পুলিশের দাবি, ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে পৌঁছানোর পর অত্যন্ত সুকৌশলে কেতনকে পাহাড়ের গভীর খাদে ঠেলে ফেলে দেন সিয়া। বর্তমানে সিয়া ও চেতন—দুজনকেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেত্রী হিনা খান। ‘ইয়ে রিস্তা ক্যায়া কেহলাতা হ্যায়’ খ্যাত অভিনেত্রী তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লিখেছেন, “আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যেখানে মানুষের কাছে সত্য কথা বলা বা তা মেনে নেওয়ার চেয়ে কাউকে হত্যা করা অনেক বেশি সহজ মনে হয়।” হিনা আরও যোগ করেন, “আজকের দিনে সত্যি কথা বলা বা শোনা এতটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, মানুষ এখন কারোর প্রাণ নিতেও দ্বিধা করছে না। স্রেফ একটা সত্যি কথা বলেই কি তাকে বাঁচানো যেত না? কেন মানুষকে এতটা নির্মম হতে হয়?”
অনেকেই এই ঘটনার সাথে শিলং মার্ডার কেস বা ‘মধুচন্দ্রিমা হত্যা’র মিল খুঁজে পাচ্ছেন। ২০২৩ সালের মে মাসে মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে নিহত হয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের রাজা রঘুবংশী। সেই ঘটনাতেও তাঁর স্ত্রী সোনম রঘুবংশী ও প্রেমিকের যোগসাজশ বেরিয়ে এসেছিল। কেতন আগরওয়ালের ক্ষেত্রেও বিয়ের আগের এই চরম বিশ্বাসঘাতকতা সমাজ ও মানবিকতার ওপর এক গভীর প্রশ্ন চিহ্ন এঁকে দিয়ে গেল। অপরাধী ও ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি উঠছে সর্বত্র।