ঘরে শয়ে শয়ে অজগর! ছোট ফ্ল্যাটে লুকিয়ে চলছিল কীসের ব্যবসা? পুলিশ হানা দিতেই স্তম্ভিত প্রশাসন

চিনের ঝেজিয়াং প্রদেশে একটি ছোট্ট ফ্ল্যাট ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্যকর রহস্য। একটি বেকার যুবকের ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ বিলের অস্বাভাবিক হার পুলিশের নজরে আসতেই ফাঁস হয়ে গেল এক বিশাল বন্যপ্রাণী পাচার চক্রের পর্দা। একা বসবাসকারী এক যুবকের ফ্ল্যাট থেকে ভেসে আসা অদ্ভুত ‘হিস-হিস’ শব্দ ও লক্ষ লক্ষ টাকার বিদ্যুৎ বিলই শেষ পর্যন্ত কাল হলো পাচারকারীদের।
২০২৪ সালের মার্চ মাসে তাইঝৌ এলাকায় এক বৃদ্ধ পাহাড়ের পাদদেশে বিশাল আকৃতির এবং অদ্ভুত বর্ণের একটি সাপ দেখতে পান। স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি মোটা এই সাপটি দেখে ওই ব্যক্তি দ্রুত পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, এটি কোনো স্থানীয় সাপ নয়, বরং একটি বিদেশি প্রজাতির অজগর। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, এই অজগরগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন, যা বজায় রাখতে প্রচুর হিটার এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়।
এই সূত্র ধরেই পুলিশ ওই এলাকার বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ বিল পরীক্ষা শুরু করে। তদন্তের সময় পুলিশের নজরে আসে ‘গুও’ (Guo) নামক এক যুবকের ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ বিল। ওই যুবক একা থাকলেও তার ফ্ল্যাটের বিল ছিল আকাশছোঁয়া, যা অন্য সব বাসিন্দার তুলনায় ছিল অবিশ্বাস্য রকমের বেশি। সন্দেহ দানা বাঁধতেই পুলিশ ওই ফ্ল্যাটে হানা দেয়। পুলিশ ফ্ল্যাটের দরজা খুলতেই যা দেখে, তাতে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যান কর্মকর্তারা।
মানুষের ব্যবহার্য আসবাবপত্রের বদলে ঘরজুড়ে ছিল সারি সারি বড় বড় প্লাস্টিকের বাক্স। সেই বাক্সগুলোর ভেতরে গাদাগাদি করে রাখা ছিল শয়ে শয়ে জীবিত অজগর সাপ। সাপগুলোর অস্বাভাবিক চলাচলের কারণেই আসছিল সেই বিশেষ ‘হিস-হিস’ শব্দ। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে গুও এবং তার সহযোগী ডি-কে (D) গ্রেফতার করে। আদালত তাদের গ্রেড-২ সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে প্রজনন ও পাচারের অভিযোগে কারাদণ্ড দিয়েছে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপগুলোর জন্য কৃত্রিমভাবে উষ্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য ওই যুবক দিনের পর দিন যে প্রচুর বিদ্যুতের ব্যবহার করছিল, সেই অস্বাভাবিক বিলই তার অপরাধের প্রধান প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়। আইনের চোখে এই অপরাধ গুরুতর হলেও, ঝেজিয়াংয়ের এই ঘটনা প্রমাণ করল যে আধুনিক প্রযুক্তির নজরদারি ও সামান্য অসতর্কতাই অপরাধীকে অপরাধের জগত থেকে টেনে বের করতে পারে।