সীমান্তে ‘স্মার্ট’ প্রহরা, কাঁটাতারহীন এলাকায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিএসএফের কাজ শুরু

দীর্ঘদিনের জট কাটিয়ে অবশেষে ভারতের সীমান্ত সুরক্ষায় এল ঐতিহাসিক পরিবর্তন। বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ রুখতে এতদিন যে কাঁটাতারের প্রাচীর তৈরি করা সম্ভব হচ্ছিল না, নতুন সরকারের হস্তক্ষেপে তা এখন বাস্তব রূপ নিতে চলেছে। বিএসএফের কাছে জমি হস্তান্তর করার কয়েকদিনের মধ্যেই সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর ৪৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠানো রিপোর্টে এই সাফল্যের কথা জানিয়েছে বিএসএফ-এর ইস্টার্ন কমান্ড।

পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ২২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের বড় একটি অংশ এতদিন অরক্ষিত ছিল। বিশেষ করে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার এলাকায় জমির অভাবে কাঁটাতার বসানো সম্ভব হয়নি। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তারা বিএসএফকে জমি দিতে অনীহা প্রকাশ করত, যার ফলে সীমান্তে অপরাধ ও অনুপ্রবেশের ঘটনা লাগামহীন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সীমান্ত সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি দুই দফায় মোট ১৭৪.৭৯ একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দিয়েছেন—প্রথম দফায় ১৪২.৭৯ একর এবং দ্বিতীয় দফায় ৩২ একর।

জমি হাতে পেতেই মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ২৪ পরগনার স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে বিএসএফ। ইতোমধ্যে ৪০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কাঁটাতারের স্তম্ভ বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। শুধু কাঁটাতার নয়, সীমান্ত সুরক্ষাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে ‘স্মার্ট বর্ডার’ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ সিসিটিভির বদলে ১৮০ ডিগ্রি ঘূর্ণনক্ষম এবং রাতের অন্ধকারেও স্বচ্ছ ছবি তুলতে সক্ষম আধুনিক ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীদের গতিবিধি শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে লেজার রশ্মি। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

উত্তরবঙ্গ ও কোচবিহারের সীমান্ত এলাকাতেও একই গতিতে কাজ চলছে। নতুন তৈরি হওয়া প্রতিটি আউটপোস্টকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও আধুনিক করে তোলা হচ্ছে। বিএসএফ সূত্রে খবর, স্মার্ট বর্ডার তৈরির এই পরিকাঠামো সম্পন্ন হলে অনুপ্রবেশ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভার অধিবেশনেও এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। এমনকি বিরোধী শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহাও স্বীকার করেছেন যে, দেশের নিরাপত্তার খাতিরে বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কাঁটাতারের এই বেষ্টনী সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা।