ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাইয়ে পাচার ১১০০ কোটি! বিধানসভায় দুর্নীতির পাহাড় ফাঁস করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

বিধানসভার ফ্লোর থেকে রাজ্যের প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এক ভয়ঙ্কর চিত্র তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাথর খাদান থেকে শুরু করে পিএইচই (PHE) বিভাগের ঠিকাদার—এমন কোনো ক্ষেত্র বাদ যায়নি যেখানে দুর্নীতির বিষবাষ্প ছড়ায়নি। মুখ্যমন্ত্রী এদিন সরাসরি অভিযোগ করেন, বীরভূমের পাথর খাদান থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হতো, তার সিংহভাগই হাতবদল হয়ে যেত। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “এক বছরে বীরভূমের পাথর থেকে আগের সরকার রাজস্ব দিয়েছিল মাত্র ৬০ কোটি টাকা। অথচ আমরা ৯ মে দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র এক মাসেই রাজস্ব পেয়েছি ৮৩ কোটি টাকা। এটা খুব শীঘ্রই ১০০ কোটিতে পৌঁছাবে।”

কিন্তু এই রাজস্বের আসল গন্তব্য কোথায় ছিল? মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যের কোষাগারে ঢোকার বদলে সিংহভাগ অর্থই পাচার হয়ে যেত। তাঁর অভিযোগ, “পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অ্যাকাউন্টে মাত্র ১০০ কোটি টাকা জমা পড়ত, আর বাকি ১১০০ কোটি টাকা ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাইয়ে পাচার হতো।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরাসরি প্রাক্তন শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে আঙুল তুলেছেন।

এখানেই শেষ নয়, পিএইচই দপ্তরের দুর্নীতি নিয়েও এদিন গর্জে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পিএইচই দপ্তরের ঠিকাদার কাকদ্বীপের স্টেট ব্যাঙ্কের শাখা থেকে আইপ্যাকের (I-PAC) অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি টাকা ট্রান্সফার করেছে। আপনারা কি ভেবেছেন, আমি এগুলো ছেড়ে দেব? কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশ্যে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, অভিযোগ থাকলে তা লিখিত আকারে জমা দিন, তদন্ত হলে কেউই রেহাই পাবে না।

এই বিস্ফোরক ভাষণের পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপক প্রতীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূলের জমানায় পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে ছেলেখেলা হয়েছে, আজ শুভেন্দু অধিকারী তা নগ্নভাবে প্রকাশ করে দিলেন। সাধারণ মানুষের মনে যে ক্ষোভ জমে ছিল, আজ বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।” অধ্যাপক আরও যোগ করেন, বর্তমান সরকারের সামনে এখন দুটি চ্যালেঞ্জ—প্রথমত, বাংলাকে উন্নয়নের পথে ফিরিয়ে আনা এবং দ্বিতীয়ত, যারা এতদিন উন্নয়নের নামে লুটপাট চালিয়েছে, তাদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা।

রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণ তৃণমূলের অন্দরমহলে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যারা এতদিন নিজেদের আড়াল করার চেষ্টা করছিলেন, তারা এখন আইনি জালে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই দৃঢ় অবস্থান বুঝিয়ে দিল যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে এগোতে চাইছে বর্তমান রাজ্য সরকার। এই তদন্ত প্রক্রিয়া যে আগামী দিনে তৃণমূলের অনেক হেভিওয়েট নেতার রাতের ঘুম কেড়ে নেবে, তা বলাই বাহুল্য।