সিভিক ভলান্টিয়রদের কপালে চিন্তার ভাঁজ! ৯০ দিনে চূড়ান্ত ঝাড়াই-বাছাইয়ের নির্দেশ রাজ্যের

রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়রদের নিয়োগ ও কাজের ধরন নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ নিল নবান্ন। স্বরাষ্ট্র দফতরের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে রাজ্যজুড়ে সিভিক ভলান্টিয়রদের নিয়োগের তথ্যের চূড়ান্ত ঝাড়াই-বাছাই করা হবে। যোগ্যতা যাচাই থেকে শুরু করে গত দুই বছরের কাজের রেকর্ড—সবকিছুই এবার কঠোর পর্যবেক্ষণের আওতায়। রাজনৈতিক সুপারিশ কিংবা স্বজনপোষণের মাধ্যমে নিয়োগ হয়েছে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাজেট অধিবেশন পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে সিভিক ভলান্টিয়রদের কাজের ধরনে স্বচ্ছতা আনার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, “পুরো ব্যবস্থায় প্রচুর জল মিশে রয়েছে, যা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।” সেই নির্দেশের প্রেক্ষিতেই স্বরাষ্ট্র দফতর এবার ময়দানে নেমেছে।
পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই ইস্যুতে অত্যন্ত সরব হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, অধিকাংশ সিভিক ভলান্টিয়র নিয়োগই ছিল পুরোপুরি রাজনৈতিক। তাঁর কথায়, “যোগ্যতা বা শারীরিক সক্ষমতা বিচার না করেই দলীয় ভিত্তিতে হাজার হাজার লোক নিয়োগ করা হয়েছে। আমার দফতরেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, যেখানে প্রয়োজনের তুলনায় বহু গুণ বেশি লোক নিয়োগ করা হয়েছিল। এই কর্মীরা দফতরে আসেই না, মাঝেমধ্যে মোটরসাইকেল নিয়ে এসে আড্ডা মেরে চলে যায়। শোনা যাচ্ছে, সপ্তাহ খানেক আগেই তারা আগাম সই করে রাখে। এই ধরনের দুর্নীতি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।”
মন্ত্রী আরও জানান, সরকারি অর্থের অপচয় আর বরদাস্ত করা হবে না। জনগনের ট্যাক্সের টাকায় অযোগ্য কর্মীদের পুষে রাখার দিন শেষ। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী:
গত ২ বছরের কাজের পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখা হবে।
নিয়োগ বা বদলিতে রাজনৈতিক প্রভাব বা ধর্মীয় পক্ষপাতিত্ব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
যারা দীর্ঘদিন দফতরে আসেননি, তাদের অবিলম্বে ছাঁটাই করা হবে।
ভবিষ্যতে ‘বিট সিস্টেম’-এ নোটিশ দিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ করা হবে।
নিয়োগে স্বচ্ছতা ফেরাতে এই ঝাড়াই-বাছাই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। যোগ্য কর্মীদের সম্মান বজায় রেখে অযোগ্যদের ছাঁটাই করা গেলে সিভিক ভলান্টিয়র পরিষেবার গুণমান অনেকটা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্ট দফতর। ৯০ দিনের এই সময়সীমা শেষ হলে রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়র বাহিনীর চেহারা পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।