TRAI-এর নতুন চমক, বিল্ডিংয়ের ডিজিটাল কানেক্টিভিটি এবার ৫ স্টার রেটিংয়ে!

ভারতের ডিজিটাল মানচিত্রে এক নতুন মাইলফলক তৈরি হলো। টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (TRAI)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাস শেষে ভারতে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌঁছেছে ১.০৯ বিলিয়নে (১০৯২.৭৯ মিলিয়ন)। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এই সংখ্যা ছিল ১০২৮.৬১ মিলিয়ন, অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে গ্রাহক সংখ্যায় ৬.২৪ শতাংশের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। শহর এবং গ্রামীণ—উভয় ক্ষেত্রেই এই উন্নয়নের জোয়ার সমানভাবে লক্ষ্য করা গেছে।
টেলিকম পরিষেবার এই পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর রিপোর্ট বলছে, ব্রডব্যান্ড পরিষেবা এই বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। ব্রডব্যান্ড গ্রাহক সংখ্যা ৫.৮১ শতাংশ বেড়ে ১০৬৫.৮৮ মিলিয়নে পৌঁছেছে, অন্যদিকে ন্যারোব্যান্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৬.৬২ শতাংশ বেড়ে ২৬.৯১ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। মোট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ১,০৪৬.২৬ মিলিয়ন মানুষ অয়ারলেস বা মোবাইল ডাটা ব্যবহারকারী এবং ৪৬.৫৪ মিলিয়ন মানুষ ফাইবার বা ফিক্সড লাইনের মতো অয়ার্ড কানেকশনের ওপর নির্ভরশীল।
ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি টেলিকম সংস্থাগুলোর আয়ও বেড়েছে। গ্রাহক প্রতি মাসিক গড় আয় (ARPU) ০.৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেবল ডাটা নয়, মানুষের কথা বলার প্রবণতাও বেড়েছে। আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় কলিংয়ের সময়সীমা (মিনিট অফ ইউসেজ) ০.৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে একজন প্রিপেইড গ্রাহক মাসে গড়ে ১০১৭ মিনিট এবং পোস্টপেইড গ্রাহক মাসে ৪৭৭ মিনিট কল করছেন।
এই ডিজিটাল অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে TRAI। ২৩ জুন, ২০২৬ তারিখে ট্রাই-এর প্রিন্সিপ্যাল অ্যাডভাইজর পুষ্পেন্দ্র কুমার সিং একটি নতুন ডিজিটাল কানেক্টিভিটি রেটিং ফ্রেমওয়ার্ক চালু করেছেন। এই ব্যবস্থায় প্রতিটি বিল্ডিংয়ের ডিজিটাল পরিকাঠামোর গুণমান বিচার করে রেটিং দেওয়া হবে। সর্বোচ্চ মানের পরিকাঠামোযুক্ত বিল্ডিংগুলো পাবে ৫ স্টার রেটিং। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ এখন বাড়ির বাইরে বেরোনোর বদলে অনলাইনে কাজ সারতে পছন্দ করছেন, যা এই ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যাপক প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগামী দিনে এই ধারা আরও গতিশীল হবে বলেই ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।